ঢাকা   মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে মিটার-রিডার ও ম্যাসেঞ্জার ঐক্য পরিষদের কর্মবিরতি (জামালপুরের খবর)        নকলায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)        বকশীগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে এনএসভিসি প্রকল্পের শিখন বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে সা’দ পন্থীদের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        ঝিনাইগাতীতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন (জামালপুরের খবর)      

অবৈধ নদী দখলকারীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

Logo Missing
প্রকাশিত: 08:17:14 pm, 2018-09-25 |  দেখা হয়েছে: 4 বার।

আজ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোসহ দেশে অন্যান্য স্থানের নদী অবৈধভাবে দখল করে যারা শিল্প-কারখানা কিংবা অন্য স্থাপনা গড়ে তুলেছে, তাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সরকার নদীর জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের নদী দখলদারদের তালিকাসংক্রান্ত প্রতিবেদন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নদী দখলদারদের তালিকা তৈরির ব্যাপাওে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ইতিমধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক অবৈধভাবে নদী দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কোনোভাবেই নদী দূষণ করা যাবে না। নদীর তীরবর্তী শিল্প-কারখানাকে নদীর পরিবেশ অক্ষুণœ রেখে কারখানা চালাতে হবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে নদীগুলো অস্তিত্ব সংকটে। স্বাধীনতার পর দেশে নদীপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার। দখলে দখলে নদীপথের দৈর্ঘ্য কমে বর্তমানে মাত্র ৩ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। আর দেড় হাজার থেকে কমে দেশে নদীর সংখ্যা এখন মাত্র ৪০০-তে ঠেকেছে। বিগত ২০০৯ সালেই বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের ৪টি নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরও থেমে নেই নদী দখল ও দূষণ। পাশাপাশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা অব্যাহত রয়েছে। ২০১০ সালে প্রণীত বালুমহাল আইনে সেতু, সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশ থেকে বালু তোলা নিষিদ্ধ হলেও আইনের তোয়াক্কা না করে বালু তোলা হচ্ছে। ইজারা ছাড়াও অনেক স্থানে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলাসহ নানা কারণে দেশের ৫১ জেলার ২৭২টি স্থানে বর্তমানে নদী ভাঙছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আর পরিকল্পনা কমিশন বলছে, নদীগুলোতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে পারলে নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং ছাড়া নদীর ভাঙন রোধ সম্ভব নয় বলে মনে করে কমিশন।
সূত্র আরো জানায়, বালুমহাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকিতে পড়ছে বলে একাধিক জেলার জেলা প্রশাসক সরকারকে জানিয়েছে। তাদের মতে, একই স্থান থেকে দীর্ঘদিন বালু তোলার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলার কারণে মেঘনা সেতু হুমকিতে পড়েছে। সেজন্য মেঘনা নদীতে দুটি বালুমহাল ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যেসব বালুমহাল চলছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সেগুলোর ইজারা বন্ধ করে দেয়া উচিত। একইভাবে যমুনা নদী থেকে অতিরিক্ত বালু তোলার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে জেলা প্রশাসক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের পাশাপাশি পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী ভাঙছে। ভাঙনের কারণে পদ্মা নদী ইতিমধ্যে ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত হয়েছে। যমুনা নদী ১২ কিলোমিটার এবং মেঘনা নদীর গড় প্রশস্ততা বেড়ে ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়েছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিস্তৃত এলাকা পদ্মার তীব্র ভাঙনের মুখে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।
অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা গেলে নদীর ভাঙন কমানো সম্ভব। একই সাথে ড্রেজিং থেকে পাওয়া মাটি দিয়ে নদীর পাড় সংরক্ষণ করা যাবে। তাতে নদীর তীরও সংরক্ষণ হবে। তাতে নদীর নাব্যতাও বাড়বে। সেজন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নদীর ভাঙন রোধে বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প না নিয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের প্রকল্প নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!