ঢাকা   সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  আবরার হত্যা: অমিত সাহা ও রাফাত কারাগারে (আইন ও বিচার)        ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        বরিশালে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মেনন (রাজনীতি)        ভোলায় পুলিশের সঙ্গে ‘তৌহিদী জনতা’র সংঘর্ষ, নিহত ৪ (জেলার খবর)        খালেদার দেখা চান ঐক্যফ্রন্ট নেতারা (রাজনীতি)        আমরা সবাই যেন সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিই : সাঈদ খোকন (ঢাকা)        প্রধানমন্ত্রীর কাছে রুশ ভাষায় প্রকাশিত তিনটি বই হস্তান্তর (জাতীয়)        ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলবেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: জয় (জাতীয়)        সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব (আইন ও বিচার)      

পুরনো মেশিনারিজের কারণে সরকারি পাটকলগুলোর উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে

Logo Missing
প্রকাশিত: 07:22:42 pm, 2019-04-15 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ অত্যাধিক পুরনো মেশিনারিজ নিয়ে চলছে সরকারি পাটকলগুলো। ফলে ওসব পাটকলের উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশে এসে ঠেকেছে। বাংলাদেশ জুটমিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ওসব কারখানার বয়স অর্ধশতাব্দীর বেশি। তার মধ্যে কেবল চটের বস্তা বানিয়েই কোনো কোনো পাটকল ৬৭ বছর কাটিয়ে দিয়েছে। আর্থিক কারণে ওসব কারখানা ভারসাম্যতা, আধুনিকীকরণ, সংস্কার ও সম্প্রসারণ (বিএমআরই) করার উদ্যোগ নিয়েও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। ফলে বিজেএমসি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধওে কেবল লোকসান দিয়েই চলেছে। ঋণের ভারে জর্জরিত ওসব কারখানা শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারে না। পরিশোধ করতে পারে না কৃষকের বকেয়া। ওসব কারণে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে থাকা সরকারি পাটকলগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা উঠেছে। বিজেএমসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিজেএমসির অধীনস্থ সরকারি ২৬টি পাটকলের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো খুলনার খালিশপুর জুট মিল ও ক্রিসেন্ট জুট মিল। ১৯৫২ সালে সেগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর ১৯৫৩ সালে ঢাকার ডেমরায় প্রতিষ্ঠিত হয় লতিফ বাওয়ানি জুট মিলস লিমিটেড। আর ১৯৫৪ সালে ডেমরায় করিম জুট মিলস লিমিটেড, চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস এবং খুলনার প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। তাছাড়া খুলনার খালিশপুরে স্টার জুট মিলস ১৯৫৬ সালে, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড, ১৯৬২ সালে নরসিংদীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএমসি জুট মিল ও বাংলাদেশ জুট মিল, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে প্রতিষ্ঠিত হয় গুল আহমেদ জুট মিলস লিমিটেড। অন্যগুলো সরকারি পাটকলগুলো দেশ স্বাধীনের দু-এক বছর আগে ও পরে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সরকারি পাটকলগুলোর বেশির ভাগ মেশিনারিজ পুরনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে নেমেছে। ফলে বিজেএমসির পাটকলগুলো লোকসানের কবল থেকে বের হতে পারছে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে মাত্র ২ বছর লাভের মুখ দেখে বিজেএমসি। বাকি ৪৫ বছরই লোকসান গুনেছে সরকারি পাটকলগুলো। অথচ বেসরকারি মিলগুলো ৯০ শতাংশ উৎপাদনে সক্ষম এবং প্রতিনিয়ত লাভ করছে। সূত্র জানায়, বিগত ২০১৪ সালে পাটকলগুলোর মেশিনারিজ পুরনো হয়ে যাওয়ায় তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কারখানাগুলো ভারসাম্যতা, আধুনিকীকরণ, সংস্কার ও সম্প্রসারণ (বিএমআরই) করার সিদ্ধান্ত হয়। ২৪টি মিল বিএমআরই করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ ধরা হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে গত ৫ বছরে ওই কার্যক্রম শুরুই করা যায়নি। তবে সম্প্রতি সরকারি পাটকলগুলোর বিএমআরই করার বিষয়ে আবারও নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। নতুন করে চট্টগ্রামের আমিন জুট মিল, ঢাকার করিম জুট মিল ও খুলনার প্লাটিনাম জুট মিল আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই লক্ষ্যে চীন সরকারের মালিকানাধীন চায়না টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন ফর ফরেন ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের সাথে চুক্তি করেছে বিজেএমসি। সূত্র আরো জানায়, বিজেএমসি প্রতিষ্ঠাকালে তার অধীন জাতীয়করণকৃত পাটকলের সংখ্যা ছিল ৭৬টি। বর্তমানে ২৬টি পাটকল তার অধীন। তার মধ্যে নন-জুট কারখানা রয়েছে ৩টি। বিজেএমসি বর্তমানে পাট উৎপাদিত এলাকাগুলোতে সর্বমোট ১৬০টি পাটক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে। বৃহত্তম পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিজেএমসি প্রধানত হেসিয়ান কাপড়, ব্যাগ, বস্তার কাপড়, বস্তা, সুতা, জিও-জুট, কম্বল, মোটা কাপড়, সিবিসি ইত্যাদি প্রস্তুত করে থাকে, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক তন্তুজাত। বিজেএমসির বিক্রয় বিভাগ ওসব পণ্য দেশী ও বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে থাকে। আর এভাবেই জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বিজেএমসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া জনবলের দিক থেকে বিজেএমসি বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ওই সংস্থায় প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক এবং সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিযুক্ত রয়েছেন। পরোক্ষভাবে তাদের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ কৃষি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ দেশের ৫ কোটিরও অধিক মানুষ পাট ও পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এদিকে সোনালি আঁশখ্যাত পাটের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে সময়ের উপযোগী বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থতায় পাট শিল্পের আশানুরূপ সম্প্রসারণ হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সরকারি পাটকলগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আর আন্তর্জাতিক বাজারকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, বাজারে টিকে থাকতে হলে এদেশে পাটপণ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। গত ৬ বছরে ভারতের চেয়ে এদেশের পাটপণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ অগ্রগতিগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে বাজারমূল্য ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বিজেএমসিকে লাভজনক করতে হলে এর খোলনলচে পাল্টে ফেলতে হবে। ৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরনো মেশিনারিজ দিয়ে এখন আর মিল চলতে পারে না। তাছাড়া সরকারি মিলগুলো এখনো তাদের উৎপাদন চটের বস্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। অথচ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বহুমুখী পাটপণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বেসরকারি মিলমালিকরা যেখানে ওসব বহুমুখী পাটপণ্য রফতানি করে কুলাতে পারছে না, সেখানে সরকারি মিলে ওসব পণ্য উৎপাদনের কোনো উদ্যোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!