ঢাকা   রবিবার ০৫ জুলাই ২০২০ | ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভা (জাতীয়)        স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়ার দাবি সংসদে (জাতীয়)        এইচএসসির মূল সনদ বিতরণ আজ থেকে (শিক্ষা)        ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু ৪১, আরও ৩৭৭৫ করোনা রোগী শনাক্ত (জাতীয়)        চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী, এগিয়ে যাবো আমরাও - তথ্য প্রতিমন্ত্রী (জামালপুরের খবর)        জামালপুর পৌরসভার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৩২ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার বাজেট ঘোষনা (জামালপুরের খবর)        মেলান্দহ পৌরসভার পানি শোধানাগার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন (জামালপুরের খবর)        মাদারগঞ্জ পৌরসভার নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করলেন মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু (জামালপুরের খবর)        জামালপুর সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি (জামালপুরের খবর)      

নুসরাত হত্যা: নুর ও শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

Logo Missing
প্রকাশিত: 07:31:20 pm, 2019-04-15 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আর সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্যের মধ্য দিয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ‘একটা সার্বিক চিত্র’ স্পষ্ট করে এনেছে এ ঘটনার তদন্তে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় পিবিআই নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত চারজনের মধ্যে দুজনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার এবং কার নির্দেশে, কারা, কীভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে; তার ‘মূল রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে’ বলে দাবি করেছে। গত রোববার বিকেল ২টা ৫৫ মিনিট থেকে দিবাগত গভীর রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা নুসরাত জাহান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ‘ঘনিষ্ঠ’ নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসেনের আদালতে দোষ স্বীকার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তার আগে এ দুজনকে পিবিআই সদর দপ্তর ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফেনীতে নিয়ে আসা হয়। আইন অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নীল কাপড়ে তাদের মুখ ঢেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। জবানবন্দি দেওয়ার পর দুই আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। রাত দেড়টার দিকে গণমাধ্যমের সামনে আসেন পিবিআইর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান। তাঁর সঙ্গে পিবিআই ফেনী ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান বলেন, গত ১০ এপ্রিল পিবিআই এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে। চার দিনের মধ্যে আমরা ঘটনার যারা মূল নায়ক, ঘটনাটি যারা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছি। পিবিআই সদর দপ্তর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তের ভিত্তিতে শুধু গ্রেফতারে সহায়তা করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আইনের মধ্য থেকেই তাদের মধ্যে দুজনকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এ দুজন আসামি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় আদালতের কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। বক্তব্যে পুরো বিষয়টি তারা খোলাসা করেছে। একেবারে কীভাবে হত্যাকা-টি ঘটিয়েছে, কারা ঘটিয়েছে, কী আঙ্গিকে ঘটিয়েছেÑএর বিস্তারিত বিবরণ আমি এখানে দেব না। বাট বিষয়গুলো এখানে এসেছে। আপনারা দ্রুতই বিষয়গুলো জানবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বা এখানে পিবিআইর যাঁরা দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিষয়গুলো অবগত করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা হত্যাকা- ঘটিয়েছে। তারা সরাসরি এখানে জড়িত ছিল কয়েকজন। পরিকল্পনা অংশগ্রহণ করেছে। জেলাখানা (অধ্যক্ষের কাছ) থেকে হুকুম পেয়েছে। এ বিষয়গুলো মূলত এসেছে। হত্যাকা-ে কতজন সংশ্লিষ্ট ছিলÑএমন প্রশ্নের জবাবে তাবেরুল হক চৌহান বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ১৩ জনের কথাই বলছি। কিন্তু আরো অনেকের নাম এসেছে। আমরা একজনের বক্তব্য যাচাই-বাছাই না করে আরেকজনকে গ্রেফতার করতে পারি না। যে চারজন সরাসরি নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে, তারা কি গ্রেফতার হয়েছেÑএমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, চারজনের সকলকে আমরা গ্রেফতার করতে পারিনি। আমার মনে হয়, দুজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। আর দুজনকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো সময় আমরা আপনাদের একটি ভালো নিউজ দিতে পারব। পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যে উঠে আসে মূল ঘটনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইর এই সূত্রটি দাবি করে, নুসরাতের ওপর হামলার সময় নুর উদ্দিন হামলাকারীদের নিরাপত্তা ও হামলার পর নিরাপদে বের হয়ে যাওয়াটি নিশ্চিত করতে স্কুলগেটে অবস্থান করেছিল। আর শাহাদাত হোসেন শামীম বাজার থেকে বোরকা ও পলিথিনে করে এক লিটার কেরোসিন সংগ্রহ করে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে। ঘটনার সময় ওড়না দিয়ে নুসরাতের দুই হাত পেছন থেকে ও মুখ চেপে ধরে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এবং নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়। নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় জাবেদ। সূত্রটি আরো দাবি করে, এ ছাড়া নুসরাতকে পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নেয় পপি। নুসরাতকে বলা হয়েছিল, তার বান্ধবীকে ছাদে মারধর করা হচ্ছে। ছাদে তখন অপেক্ষায় ছিল শামীম, জাবেদ, শম্পাসহ আরো একজন। নুসরাত জাহান রাফি এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এস এম মুসার মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নুসরাত তৃতীয়। গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। পরে এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাতে তিনি মারা যান। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চার/পাঁচজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই নোমান মামলা দায়ের করেন। এরপর গত বৃস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন, পরদিন শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার করে পিবিআই। নুর উদ্দিন নুসরাত হত্যা মামলার দুই নম্বর এবং শাহাদাত হোসেন শামীম তিন নম্বর আসামি। এ মামলায় এজাহারনামীয় সাতজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাও রয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে ১১ জনকে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও জাবেদ সাত দিন করে এবং অন্যান্যের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এজাহারভুক্ত এক আসামি হাফেজ আবদুল কাদের এখনো গ্রেফতার হয়নি। কাউন্সিলর মাকসুদ রিমান্ডে: নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যামালায় গ্রেফতার পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমেদ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাকসুদকে ঢাকার ফকিরাপুল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। মাকসুদ আলম সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। নুসরাতের মৃত্যুর দুদিন পর গত ১২ এপ্রিল তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। এদিকে দুপুরে নুসরাত হত্যাকা-ে জড়িত সবার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আইনজীবীরা। পরে বিকেলে শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনারে একই দাবিতে মানববন্ধন হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সেখানে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, সিপিবির সভাপতি ফয়জুল হক মিলকি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ফেনীর সাধারণ সম্পাদক সমর দেবনাথ, সাংস্কৃতিক সংগঠন পায়রা-এর সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলুসহ অনেকে। এর আগে সকালে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’, ‘মাল্টিসফট আইটি’, ‘গ্রান্ড হক টাওয়ার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠন’-এর নেতাকর্মীরা নুসরাতের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেন। এদিকে নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে সোনাগাজী বাজারের জিরো পয়েন্টে একাধিক সংগঠন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। প্রতিটি মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।