ঢাকা   মঙ্গলবার ২০ অগাস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া (বিবিধ)        খুলনা রেলওয়ে থানায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি (খুলনা)        গাজীপুরে মশার ২৫ টন ওষুধ আমদানি করা হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর (জেলার খবর)        ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে দুই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী (জাতীয়)        কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন (জেলার খবর)        ফের হাইকোর্ট ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন (আইন ও বিচার)        আগামী বছর থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী (কৃষি ও প্রকৃতি)        দেশের সব ক্ষেত্রে সমন্বিত উন্নয়ন হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী (জাতীয়)        দুর্নীতির মামলায় নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির গ্রেফতার (জেলার খবর)        খালেদার ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর (আইন ও বিচার)      

নাটোরে হত্যা মামলার সাক্ষীকে কুপিয়ে হত্যা

Logo Missing
প্রকাশিত: 06:49:52 pm, 2019-06-13 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় একটি হত্যা মামলায় সাক্ষী দিতে আদালতে যাওয়ার সময় জালাল উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে ডান হাত কেটে নেয় এবং বাম হাতসহ পা কেটে জখম করে। এ অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর একটার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত জালাল উদ্দিন উপজেলার যোগিন্দ্র নগর গ্রামের আমজাদ হোসেন ওরফে আনন্দ ম-লের ছেলে। তিনি ওই এলাকার মোমিন ম-ল হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি। গত ৮ বছর ধরে সপরিবারে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন এবং একটি হত্যা মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বাড়িতে এসেছেন বলে জানা গেছে। গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ১৩ মে উপজেলার যোগিন্দ্র নগর গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহত সফুরার ভাই বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জালাল উদ্দিনকে প্রধান সাক্ষী করা হয়। সেই সফুরা হত্যা মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষীর হাজিরার নির্ধারিত দিন ছিল। সকাল ১০টার দিকে জালাল উদ্দিন আদালতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে সাবগাড়ী বাঁধ এলাকায় পৌঁছালে একই গ্রামের মোমিন ম-লের ছেলে আশরাফুল ইসলাম, রফিক ইসলাম, আক্কাছ ম-লের ছেলে শরিফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান ও তাদের সহযোগিরা পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা জালাল উদ্দিনের ডান হাত কেটে নেয় এবং বাম হাতসহ পা কেটে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওসি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে কেটে নেওয়া হাত এখনও উদ্ধার করা যায়নি। এদিকে স্থানীয় বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান, যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা প্রকৃতই সন্ত্রাসী। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মালেকসহ অনেকে জানান, যোগেন্দ্রনগর গ্রাম এখন ক্রাইমজোনে পরিণত হয়েছে। শক্ত পদক্ষেপ না নিলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে না। তিনি বলেন, হাত পা কেটে নেয়া, হত্যা করা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা ঘটনায় এলাকার মানুষ এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গত তিনমাস আগেও ওই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে মমিনের (৩৭) হাত কেটে নেওয়া হয়। তারআগে একই গ্রামের কোবাদ হাজির ছেলে মোজামের (৩৮), ওসমানের ছেলে খালেক (৩৬) ও করম আলীর ছেলে খালেকের (৫৭) হাত কেটে নেওয়া হয়। আর এসব ঘটনা পারিবারিক কলহের জের ধরেই ঘটেছে। মাত্র পাঁচ-ছয়টি পরিবারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে চলেছে। এরআগে ২০০১ সালে রাজনৈতিক কলহে জালারের পরিবার ৫ বছর এলাকা ছাড়া ছিল। ওই সময় জালালের জমিজমা দখল করে নেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। ওই সময়ে বৃদ্ধ মোমিন ম-লকে হত্যা করা হয়। এর ৬ মাসের মধ্যে পাগল সফুরাকেও হত্যা করা হয়। সেই থেকে পরিবার দু’টিতে হত্যা মামলা চলে আসছে।