ঢাকা   মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  তরঙ্গ মহিলা কল্যাণ সংস্থা,জামালপুরের আয়োজনে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বিষয়ক প্রশিক্ষন (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিচারকদের সাথে আস্থা প্রকল্পের কর্মশালা (জামালপুরের খবর)        বিআরটিসি এসি বাসে কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না-জেলা প্রশাসন (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে বৃক্ষমেলা সমাপ্ত (জামালপুরের খবর)        ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় মৎস্যজীবী লীগের দোয়া মাহফিল (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে শিশু ফোরামের আটটি শাখাকে সম্মাননা প্রদান (জেলার খবর)        শ্রীবরদীতে স্বাক্ষরতা প্রকল্পের উদ্বোধন (জেলার খবর)        রংপুর উপনির্বাচন: সরে দাঁড়ানো ঘোষণা আ. লীগ প্রার্থীর (রাজনীতি)        ছাত্রলীগের কেউ অনিয়ম করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা: নাহিয়ান (রাজনীতি)        মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় পুলিশের আলাদা ইউনিট গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)      

টোল আদায়ের অর্থ দিয়ে সড়ক রক্ষণাবেক্ষনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:44:11 am, 2019-09-04 |  দেখা হয়েছে: 8 বার।

ঢাকা ডেক্স: বাংলাদেশের সব জাতীয় মহাসড়ককে টোল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। টোল আদায়ের অর্থ দিয়ে সড়ক রক্ষণাবেক্ষনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেক সভায় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘সওজ আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভাশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সব জাতীয় মহাসড়কে টোল আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। টোল আদায়ের অর্থ দিয়ে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। টোল আদায়ের অর্থে পৃথক খাত তৈরি হবে। এই খাত থেকে সড়ক মেরামত করা হবে। একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে যানবাহন খাতে যাতে লোড টেম্পারিং না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লোড সিস্টেম কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে। এটা অটো অপারেট করতে হবে। তিনি বলেন, সড়কে চলার সময় বাসে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। ট্রাকের ক্ষেত্রে যেন ওভারলোড না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার বাইরে সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। যাতে মানুষ ঢাকামুখী না হয়। এদিকে প্রত্যেক কারাগারে ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, কারাবন্দির মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ৫০ শতাংশ তাকে বা তার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কারাগারে ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেমও চালুর কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া বিদেশে চাহিদা আছে এমন জাতের আলুর উৎপাদনের দিকে নজর দিতেও সংশ্লিষ্টদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ৬৩২৬ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন: যানবাহনের অতিরিক্ত ওজনের (ওভারলোড) কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে সড়কের আয়ুষ্কাল। দেশের সড়কের এমন পরিণতি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)। ‘সওজ আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, একনেক সভায় মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০টি প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩শ ২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯শ ৯৯ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য, বাকি অর্থ সরকারি খাত থেকে সংস্থান করা হবে। এক্সেল লোড স্থাপন প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬শ ৩০ কোটি টাকা। চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৯০ সেটওয়ে ইন মোশন স্কেল, ৩১ সেট স্ট্যাটিকওয়ে ব্রিজ স্কেল স্থাপন ও কমিশনিং করা হবে। স্থানগুলো হলো- গাজীপুর সদর, কেরানীগঞ্জ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, শেরপুর নালিতাবাড়ি, কুমিল্লার বুড়িচং, ফেনী সদর, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম সদর, সীতাকুন্ড, নরসিংদীর শিবগঞ্জ, সিলেট বিয়ানীবাজার, খুলনা রামপাল, সাতক্ষীরা সদর, চুয়াডাঙার দামুড়হুদা, দিনাজপুরের হাকিমপুর, কুড়িগ্রামের রৌমারী, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, সৈয়দপুর, শিবচর ও কালিহাতী উপজেলা। সব ক্ষেত্রে নিরাপদ পানি ব্যবহার জনস্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম শর্ত। কিন্তু পরিবেশে রাসায়নিক দ্রব্য ও জীবাণুর কারণে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি এখন সবার জন্য প্রায় দুষ্প্রাপ্য। সেজন্য জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। তাই সারাদেশের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে ৫২টি নতুন পরীক্ষাগার স্থাপন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘পানির গুণগতমান পরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটিও একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, ঝিনাইদহ, রংপুর, বগুড়া, সিলেট, টঙ্গী, বরিশাল, নোয়াখালীতে (১২টি) পানির পরীক্ষাগার রয়েছে। বর্তমানে থাকা পরীক্ষাগার থেকে অনেক জেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরিবহনে জটিলতা দেখা যায়। সেজন্য অনেক সময় পানি পরীক্ষার সঠিক ফল পাওয়া যায় না। নতুন করে ৫২টি পানি পরীক্ষাগার স্থাপিত হলে সারাদেশের জনগোষ্ঠী এই সুফল পাবে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার মাধ্যমে সেই পানির গুণগতমান সম্পর্কে জানা যাবে। ফলে সারাদেশের মানুষ বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা পাবে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো: ‘কুড়িগ্রাম (দাসেরহাট)-নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ ‘ভুয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প; ‘৪-লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক ৪ বছরের জন্য পারফরম্যান্স বেইজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ’ প্রকল্প। ‘নরসিংদী জেলা কারাগার নির্মাণ’, ‘মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ’ প্রকল্প; ও ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্প; এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘কনভারশন অব ১৫০ মে. ও. সিলেট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট টু ২২৫ মে. ও. কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভ‚মিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন।