ঢাকা   সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সারা দেশের ন্যায় জামালপুরেও পিএসসি ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা শুরু (জামালপুরের খবর)        শ্রীবরদীর সীমান্তে গরুর সাথে আসছে মাদক! (জেলার খবর)        জামালপুরে ৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক- ১ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ৫ গ্রাম হেরোইনসহ আটক-১ (জামালপুরের খবর)        চার দিনে মেলায় কর রাজস্ব আয় ১৩৪৬ কোটি টাকা (অর্থনীতি )        ট্রেনের ধাক্কায় নয়, পরিকল্পিত খুনের শিকার শরীফ (অপরাধ)        দুবাই এয়ার শো-তে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান (জাতীয়)        প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল বিএনপি (রাজনীতি)        চালের দাম যেন আর না বাড়ে, মিলারদের খাদ্যমন্ত্রী (জাতীয়)        চিপসের প্যাকেটে খেলনা : বিএসটিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ (আইন ও বিচার)      

গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

Logo Missing
প্রকাশিত: 07:38:23 pm, 2019-09-07 |  দেখা হয়েছে: 6 বার।

আ.জা.ডেক্সঃ রাজধানী থেকে অপরাধ দূর করতে সব ধরনের ‘গ্যাং’ নিশ্চিহ্ন করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, কিশোর গ্যাং বলি আর বড় গ্যাং বলি, ঢাকায় গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না। সবাইকে নিশ্চিহ্ন করা হবে । আশুরা সামনে রেখে গতকাল শনিবার হোসেনী দালানের ইমামবাড়ার নিরাপত্তার আয়োজন দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া। রাজধানীতে কিশোর-তরুণদের মধ্যে দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘গ্যাং কালচার’। অনেক ক্ষেত্রে এসব দল গড়ে উঠছে বিভিন্ন নামে খোলা ফেইসবুক গ্রুপকে কেন্দ্র করে। স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে, সংগঠিত হচ্ছে। এরা মাদকের নেশা, ছিনতাই, রাহাজানির মত অপরাধে যেমন জড়াচ্ছে, বিভিন্ন দলের কোন্দলে হত্যাকা-ের মত ঘটনাও ঘটছে। তাজিয়া মিছিল ঘিরে প্রতিবছেই এ ধরনের কিশোরদের বিভিন্ন দল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে বলে পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন একজন সাংবাদিক। উত্তরে তিনি বলেন, গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে ডিএমপি শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করেছে। ঢাকায় কোনো গ্যাং থাকবে না। অন্য কাউকেও মিছিলে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। বরগুনায় ‘বন্ড জিরো জিরো সেভেন’ নামের এক ফেইসবুক গ্রুপ ঘিরে সংঘবদ্ধ হওয়া একদল কিশোর-তরুণের হাতে রিফাত শরীফ হত্যাকা-ের পর ঢাকাতেও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় উঠতি বয়সী অপরাধীদের গ্রেফতারে সক্রিয় হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকার উত্তরায় অভিযান চালিয়ে গত জুলাই মাসে ১৪ কিশোর-তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ জানিয়েছিল, তারা ‘এফএইচবি গ্যাংস্টার’ নামের এক ফেইসবুক গ্রুপের সদস্য। এরপর ২৫ অগাস্ট রায়েরবাজার এলাকা থেকে ‘স্টার বন্ড’ ও ‘মোল্লা রাব্বি’ নামে দুই গ্রুপের১৭ কিশোরকে ধারালো অস্ত্র, মদকসহ আটক করে সংশোধনাগারে পাঠায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মুগদা-মা-া এলাকা থেকে ২৩ তরুণকে আটক করে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে পাঠানো হয় সংশোধনাগারে। তারা কিশোর-তরুণদের গ্যাং ‘ডেভিলস কিং’, ‘চান-যাদু’ ও ‘আগুন’ এর সদস্য এবং মাদক সেবন, ছিনতাই, মারামারি, চুরির মত অপরাধে জড়িত বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সর্বশেষ গত শুক্রবার হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১০ জন কিশোরকে আটক করে পুলিশ। পুরনো মামলা থাকায় তাদের সাতজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বাকিদের সতর্ক করে দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের আগে তল্লাশি: আসন্ন আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে আসা সবাইকে তল্লাশি করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপি কমিশনার বলেন, আশুরার মিছিলে শুরু থেকে অংশগ্রহণ করতে হবে। মিছিল চলাকালে মাঝপথে কোনো অলিগলি থেকে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যারা মিছিলে অংশগ্রহণ করবেন শুরুতেই সবাইকে তল্লাশি শেষে মিছিলে অংশ নিতে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আশুরাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া, মিরপুর, বড় কাটারা, ছোট কাটারা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় মহরমের ৬ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রত্যেকটি ইমামবাড়া সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত। যারা অনুষ্ঠানে আসবেন তাদের প্রত্যেককে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি হয়ে আসতে হবে। এছাড়া, ইমামবাড়ার চারপাশে পুলিশের চেকপোস্ট থাকবে। পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি) এবং গোয়েন্দাদের নজরদারি থাকবে। অনুষ্ঠানের আগে ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা সুইপিং করা হবে। অনুষ্ঠানগুলো মনিটর করবে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও সোয়াত টিম। কমিশনার বলেন, মরহমের মিছিলে ধাতব বস্তু, ছুরি, তরবারি ও বর্শা নিয়ে আসা যাবে না। এ ছাড়া মিছিলে কোনো বস্তু বহন করা যাবে না। মিছিলে যে নিশান ব্যবহার করা হয় তা ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার করা যাবে না। আশুরা উপলক্ষে রক্তাক্ত তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঞ্জা মেলানো, শক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিছিলে উচ্চশব্দে যেকোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ শোকের মিছিল সুতরাং যেকোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র উৎসব-আনন্দে নিষিদ্ধ। ২০১৫ সালে হোসেনি দালানের বোমা হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তদন্তের পর এই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত যখন বলবেন, তখন মামলার সাক্ষীদের হাজির করা হবে।