ঢাকা   সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  আবরার হত্যা: অমিত সাহা ও রাফাত কারাগারে (আইন ও বিচার)        ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        বরিশালে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন মেনন (রাজনীতি)        ভোলায় পুলিশের সঙ্গে ‘তৌহিদী জনতা’র সংঘর্ষ, নিহত ৪ (জেলার খবর)        খালেদার দেখা চান ঐক্যফ্রন্ট নেতারা (রাজনীতি)        আমরা সবাই যেন সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিই : সাঈদ খোকন (ঢাকা)        প্রধানমন্ত্রীর কাছে রুশ ভাষায় প্রকাশিত তিনটি বই হস্তান্তর (জাতীয়)        ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলবেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)        তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: জয় (জাতীয়)        সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব (আইন ও বিচার)      

ইসলামপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দুর্নীতি

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:02:17 pm, 2019-09-16 |  দেখা হয়েছে: 10 বার।

ওসমান হারুনী: জামালপুরের ইসলামপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের অনিয়ম-দুর্নীতি,ঘুষ বাণিজ্যের কারণে অগ্রীম ভূয়া ভাউচারে অসময়ে দায়সারা কাজ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত, স্লিপ ,রুটিন মেইন টেইন ও ওয়াশ ব্লকের আড়াই কোটি টাকা হরিলুট চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের বরাদ্ধ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য ইসলামপুর উপজেলায় বিদ্যালয় মেরামত, স্লিপ ,রুটিন মেইন টেইন ও ওয়াশ ব্লকের জন্য আড়াই কোটিরও বেশি টাকা সরকারি বরাদ্ধ হয়। এসব বরাদ্ধের উক্ত টাকা গত জুন মাস আগে প্রধান শিক্ষকরা উত্তোলন করে সঠিকভাবে কাজ করার কথা থাকলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। সরেজমিনে খোজঁ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে এখনো ওইসব বরাদ্ধের সিংহভাগ টাকা বিদ্যালয় গুলোতে পৌঁছেনি। জমা রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাউন্টে। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্ধকৃত ওইসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জুনের আগে অগ্রীম ভাউচার দিয়েও তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্ধকৃত টাকা সঠিক সময়ে না পাওয়ায় তারা কাজ করতে পারছেনা। কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজের তহবিল দিয়ে দায়সরা ভাবে কাজ করেও ছাড়া সংশ্লিষ্ঠ দায়িত্বে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার ও দায়িত্ব প্রাপ্তদের পরিদর্শন নামে পারসেনটেন্স/ঘুষ ছাড়া বিল তুলতে পারছেনা শিক্ষকরা। গতকাল ১৫সেপ্টেম্বর ইসলামপুর বুলবুল সরকারি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এই বিদ্যালয়ের নামে মেরামতের জন্য ১লক্ষ ৫০ হাজার, স্লিপ ৭০ হাজার ও প্রাক প্রাথমিকের জন্য ১০হাজার টাকা বরাদ্ধ হলেও উক্ত বরাদ্ধের টাকা এখনো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের একাউন্টেই রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সহিদাতুন্নেছা। সরেজমিনে দেখা গেলো অগ্রীম ভূয়া ভাওচারে বিদ্যায়ের নামে পাশ হওয়া মেরামতের ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা পাওয়ার আশায় প্রধান শিক্ষিকা নিজের তহবিল থেকে আনুমানিক ৩০হাজার খরচ করে বিদ্যালয় ভবন,দরজা,জানালা রং করেছেন। স্লিপ ও প্রাক প্রাথমিকের জন্য বরাদ্ধসহ বাকী টাকার আর কোন কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলো না বিদ্যালয়ে। তবে আরও কাজ করা হবে বলে দাবী করেন জানালেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। এছড়াও ইসলামপুর পুর্ব বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের টেবিল ব্রেঞ্চ বন্যার সময় পলিমাটি পড়ে ডুবে থাকলেও এখনো বিদ্যালয় কক্ষ থেকে মাটিগুলি সড়িয়ে ফেলা হয়নি। ফলে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অথচ্য বিদ্যালয়টিতে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের উন্নয়ন মূলক কাজসহ মেরামতের জন্য ১লক্ষ ৫০ হাজার, স্লিপের ৫০হাজার ও প্র্যাক- প্রাথমিকের জন্য আরো ১০হাজার টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক উক্ত বরাদ্ধের টাকা বিদ্যালয়ের কাজে সঠিক ভাবে ব্যায় না করে ভূয়া ভাউচার দিয়ে বিদ্যালয় মেরামতসহ অন্যান্য বরাদ্ধের সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করেছেন। এ ব্যাপারে পুর্ব বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের সাথে কথা হলে তিনি উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়গুরি পাশ কাটিয়ে বলেন জানান একই ভাবে গত ৮সেপ্টেম্বর রৌহার কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে বিদ্যালয় মেরামতের নামে বরাদ্ধ কৃত টাকা এখনো তিনি উত্তোলন করেননি। তবে ¯িøপ ও প্রাক প্রাথমিকের নামে বরাদ্ধ টাকা উত্তোন করে সেই টাকা দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য টিনসেট ঘর তুলেছেন। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে মেরামতের লাখ লাখ টাকা বরাদ্ধ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দালালী ও ঘুষ বাণ্যিজ্য জমজমাট চলছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে,একটি দালাল চক্র উপজেলা শিক্ষা অফিসাকে ম্যানেজ ও ঢাকা থেকে ঘুষ দিয়ে বরাদ্ধ আনা হয়েছে কথা বলে উপজেলা বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হানা দিয়ে প্রধান শিক্ষকদের কাছে তাদের দাবী কৃত মোটা অংকের টাকা দাবী করছে। একটি অভিযোগে জানা যায়,ইসলামপুর পৌর শহরের এস.এম.এ.আর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য সম্প্রতি ২লক্ষ টাকা বরাদ্ধ হয়। এস.এম.এ.আর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদুজ্জামান জানান, উক্ত মেরামত কাজের ব্যাপারে তিনি বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে কোন মিটিং বা রেজুলেশনও করেননি। কাজের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকাকে কমিটি’র সভা আহবান করতে বললেও প্রধান শিক্ষিকা সভা না করে নিজের ইচ্ছামত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম করছেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিরিনা পারভীন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে সভাপতি স্বাক্ষর ও সদস্য মারফুজার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভূয়া রেজুলেশন বানিয়ে মেসার্স আমজাদ ফার্নিচার মাঠ নামে ৯৬হাজার ৯০০টাকা, ভাই ভাই মেশিনারীজ এন্ড হার্ডওয়ার স্টোর-৩৮ হাজার ৯০০টাকা, মেসার্স সবুজ এন্টার প্রাইজ ৬হাজার ৭৫০টাকা, মেসার্স উজ্জল এন্টার প্রাইজ-৪ হাজার ৫০০ টাকা, টলি মালিক মো: রাশে মিয়া নামে-৪হাজার ৯৫০টাকা, রাজ মিস্ত্রি জালাল মিয়া নামে ৪হাজার,রংমিস্ত্রি আলাল মিয়া নামে ১৩হাজার ও ট্রাক্টর মালিক আজিজ মিয়া নামে ৩১হাজার টাকার নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে কাজ দেখিয়ে অগ্রীম কাজের বিপরীতে অতিরিক্ত ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে উক্ত বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করে দায়সারা ভাবে কিছু কাজ করে সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করার পায়তারা চলছে। এসব ভূয়া ভাউচারের পারসেন্টন্স ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে স্বাক্ষর করে বিল পাশ করে দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্ধকৃত উক্ত মেরামত কাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০হাজার টাকা ভাউচার দেখিয়ে যে ১০টি কাঠের ব্রেঞ্চ বানানো হয়েছে তা অত্যান্ত নিম্বমানের। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জনৈক কাঠ মিস্ত্রির জানিয়েছেন ১০টি বেঞ্চ তৈরী করতে আনুমানিক ১৫হাজার টাকা খরচ পড়তে পারে। একই ভাবে ভাউচারে অতিরিক্ত টাকা তুলে একটি ষ্টিলের ফাইল ক্যাবিনেট ও আলমারী বানানোসহ মেরামতের অন্যান্য খাত দেখানো হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে মেরামতের নামে অতিরিক্ত টাকার ভাউচারের আত্মসাতের সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা শিরিনা পারভীন বলেন,আমি কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করিনি। গত ২সেপ্টম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদুজ্জামান নবাব এক ব্যাক্তিকে সাথে নিয়ে বলে প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত প্রকল্প কাজের জন্য টাকা আনতে অনেক খরচ হয়েছে। তাই তারা আমার কাছে টাকা দাবী করে। উক্ত টাকা না দেওয়ায় আমার বিরোদ্ধে নানান অপপ্রচার করছে। একই ভাবে ইসলামপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের অনিয়ম-দুর্নীতি,ঘুষ বাণিজ্যের কারণে অগ্রীম ভূয়া ভাউচারে অসময়ে দায়সারা কাজ করে এই উপজেলায় বরাদ্ধকৃত বিদ্যালয় গুলোর নামে মেরামত, স্লিপ ,রুটিন মেইন টেইন ও ওয়াশ ব্লকের আড়াই কোটি টাকা হরিলুটের মহোউৎসব চলছে। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরোদ্ধে শিক্ষক জাতীয় করণ গেজেটে শিক্ষকের নাম সংশোধন করে দেওয়ার নামে ৪লক্ষাধিক টাকা ঘুষ বাণিজ্যেসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সাথে করা হলে তিনি উপরোক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,বিষয়টি আমার একার নয়; মেরামত কাজের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটি পরিদর্শন ও ইঞ্জিনিয়ার কাজের স্টিমেট তৈরী করেছে।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!