ঢাকা   মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে ৬শ অসহায় পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই: আশরাফুল ইসলাম বুলবুল (জামালপুরের খবর)        করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের সমস্যা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন-মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        গন্তব্যে পৌছবে কি ছানুর নৌকা (জামালপুরের খবর)        বেতন ও বোনাসের টাকায় ঈদ সামগ্রী নিয়ে দেড়শ মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কিরন আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে তরুনদের সহায়তায় দুইশত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ময়মনসিংহে ৩শ দরিদ্র পরিবারের মাঝে সেনা প্রধানের ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন আর্টডক সদস্যরা (ময়মনসিংহ)        করোনা যোদ্ধা নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী দাস শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন (ময়মনসিংহ)        বিদ্যানদীর মত সকল সামাজিক সংগঠন যদি এই দুর্যোগের সময়ে এগিয়ে আসে তবে সরকারের উপর চাপ অনেকংশে কমে যাবে -মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)      

ভুলে বালিশের দাম ২৭ হাজার টাকা ধরা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:19:17 pm, 2019-10-03 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আ.জা. ডেক্স:

চট্রগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ডিপিপিতে একটি বালিশের দাম ২৭ হাজার ৭২০ টাকা ধরা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। ভবিষ্যতে যাতে এমন ভুল না হয়, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন মন্ত্রী।

গতকাল বুধবার ‘এবার বালিশ ২৭,৭২০ কাভার ২৮,০০০’ শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্রগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় প্রতিটি বালিশের দাম ২৭ হাজার ৭২০ টাকা, বালিশের মোড়কের দাম ২৮ হাজার টাকাসহ অনেক জিনিসের অস্বাভাবিক দাম প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এ প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ডিপিপি প্রস্তুতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। বালিশের প্রস্তাবিত দাম অনেক বেশি এবং এই প্রস্তাব তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না সে প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, আমরা মনে করি, অবশ্যই এটা ভুল হয়েছে। এমন ভুল যাতে আগামীতে না হয় সে ব্যবস্থা আমরা নেব।

কয়েক মাস আগে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের আসবাবসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে আসে। সেখানেও একটি বালিশের পেছনে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এরপর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে ওই ঘটনার তদন্তে প্রকল্পের মালামাল কেনা ও উঠানোয় ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা দুর্নীতি হওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই দুর্নীতির জন্য ৩৪ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়।

রূপপুরের ঘটনার সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের মিল দেখছেন কি না, সে প্রশ্ন করা হয়েছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেককে। জবাবে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তো কাজ চলমান সময় বা শেষ সময়ে আর এটাতো কাজ এখনও শুরুই হয়নি। এই প্রকল্পের কাগজ এখনও একনেকে যায়নি। আগামীতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যেমন ক্যাসিনো বিষয়টি দেখছেন। উনি চাচ্ছেন ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে মানসিক ডেভেলপমেন্টটাও হোক। খালি টাকা-পয়সা হলেই একটা দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। মানসিকভাবে যদি আমরা ভালো না হই, আমাদের যদি নৈতিকতা না থাকে তাহলে পরে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না।

এ সময় চিকিৎসকদেরও দায়িত্ব পালনে সতর্কতার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি হাসপাতালে যদি গিয়া দেখি ডাক্তর নাই, পরিছন্নতা নাই, ঔষুধ নাই, মেশিনটা নষ্ট হয়ে রয়েছে তাহলে কিন্তু আমরা সেবা দিতে পারলাম না। এখানে কিন্তু এথিকসের বিষয় চলে আসে। এটা কে আমরা বলব পার্ট অব করাপশন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা নিয়ে এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের দেশের আর্থিক দুর্বলতার কারণে গবেষণার জন্য যতটুকু সাপোর্ট দিতে হয় তার সম্পূর্ণটা দিতে পারি না। দেশ আগাচ্ছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, তাই ধীরে ধীরে গবেষণার ব্যয় বাড়াতে পারব। আমরা কথা বলেছি ব্রাসেলসে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১০ জন শিক্ষার্থীকে ফুল স্কলারশিপে গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিয়েছে তারা। মেধা তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে এই সুযোগ দেওয়া হবে।

দেশের আট বিভাগের জন্য আটটি ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব একনেকে পাশ হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আটটি কিডনি হাসপাতালের প্রস্তাবও একনেকে তোলা হবে বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কোনো মানুষকে যেন আর ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে না হয় সে বিষয়েও কাজ চলছে। প্রতিটি বিভাগীয় হাসপাতালে এক হাজারের উপরে শয্যার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আর কাউকে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে না হয়। ডেঙ্গু নিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিতে পেরেছি, প্রায় এক লাখ রোগীকে সেবা দিয়েছি। আগামীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পলিসি নেব যেন এবারের মতো সমস্যায় পড়তে না হয়।