ঢাকা   ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ইলিশ শিকারের দায়ে বরিশালের ৩ পুলিশ বরখাস্ত (বরিশাল)        ঢাকায় নদীর তীরে প্লট-ফ্ল্যাট কেনায় নৌমন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা (ঢাকা)        জয়পুরহাটে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদন্ড (জেলার খবর)        চবির শাটল ট্রেনের বগির নামে প্ল্যাকার্ড-স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা (রাজনীতি)        পরিবেশ দূষণ করায় চট্টগ্রামে তিন কারখানাকে প্রায় ৭ লাখ টাকা জরিমানা (চট্রগ্রাম)        সাময়িক বরখাস্ত হলেন ডিসি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে পুলিশ অ্যাসল্টের মামলা, গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য এলাকা (জেলার খবর)        দেওয়ানগঞ্জ বিশেষ শিক্ষা বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিনা মুল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন (জামালপুরের খবর)        বিপ্লব চন্দ্রের শাস্তির দাবি ও ৪ জনকে হত্যার প্রতিবাদে জামালপুরে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ (জামালপুরের খবর)      

যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলায় বেড়েই চলেছে রেল দুর্ঘটনা

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:46:29 am, 2019-10-07 |  দেখা হয়েছে: 5 বার।

আ.জা. ডেক্স:

আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে রেল দুর্ঘটনা। এজন্য রেলওয়ের প্রকৌশলী ও কর্মীদের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অবহেলাকেই সংশ্লিষ্টরা দায়ি করছে। বিগত ২০১৪ সাল থেকে গত জু নপর্যন্ত ট্রেনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার মধ্যে ৭৩ শতাংশ ছিল লাইনচ্যুতি। আর গত আগস্টের প্রথম ১৯ দিনেই ১৫টি ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ১০ বছরে ৪ হাজার ৭৯৮ বার ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে ৩৯২ জনের প্রাণহানি ঘটে। রেলপথ, ইঞ্জিন ও বগি রক্ষণাবেক্ষণে সাধারণ কর্মচারী থেকে প্রকৌশলীদের অবহেলায় ট্রেনের চাকা চলতে গিয়ে লাইন থেকে পড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রেলপথে দুর্ঘটনার প্রায় ৭৩ শতাংশই ট্রেনের চাকা পড়ে যাওয়া বা লাইনচ্যুতিতে ঘটছে। গত ঈদ যাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে লাইনচ্যুত হয়ে একদিনের ট্রেন পরের দিনও চলাচল করেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমলেও স্বাভাবিক সময়েও অহরহ ট্রেনের লাইনচ্যুতি ঘটছে। গত ঈদ যাত্রায় রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগে ট্রেন চলেছে ৩ থেকে ২৩ ঘণ্টা বিলম্বে। ঈদ যাত্রার সময়সূচি বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম রেলে মহাব্যবস্থাপক বদলি করা হয়েছে। তার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। কারণ মাঠপর্যায়ে রেলপথ, রেল সেতু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই হচ্ছে না। বরং পরিদর্শন কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক লোক আহত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জালালাবাদ এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হয়। তাতে ওই পথে ৪ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। তাছাড়া গত ১৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালীতে তিস্তা এক্সপ্রেসের একটি বগি রেলপথ থেকে পড়ে যায়। তাতে ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। একই দিন দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর গোধূলি ট্রেনের চাকা ফেনী-শার্শদী সেকশনের হরষপুরে রেলপথ থেকে পড়ে যায়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেলপথ ভেঙে সাড়ে ৩ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ওই দুর্ঘটনার পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলস্টেশনের দুদিকের আউটার সিগন্যালের মধ্যবর্তী অংশে রেলপথে প্রয়োজনীয় পাথর নেই। চলতে গিয়ে ট্রেন স্বাভাবিকভাবে দুলে ওঠে। রেলস্টেশনের সামনে ও পাশে বাগুয়ায় আগেও দুবার রেলপথ ভেঙে পড়েছিল।

সূত্র জানায়, রেলপথের শত শত স্লিপার থেকে প্যান্ডেল ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে। রেলপথে সঠিক পরিমাণে পাথর ও স্লিপার না থাকা ছাড়াও রেলপথ নিয়মিত পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত কর্মী ও প্রকৌশলীদের অবহেলা, ইঞ্জিন ও বগি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবস্থা আরো সঙ্গিন হয়েছে। এ বিষয়ে রেল ভবনে অভিযোগও এসেছিল; কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রেলওয়ের ট্রেন পরিচালনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের মতে, রেলপথ বা ট্রেনের ত্রুটি হলে বগি লাইনচ্যুত হয়। রেলপথে পাথর কম থাকা, স্লিপার ও নাটবল্টু আলাদা হলে ট্রেনের চাকা রেলপথ থেকে পড়ে যায়। জীর্ণ রেলপথে গতি বেশি হলেও লাইনচ্যুতি ঘটে। তাছাড়া বগি আন্ডার গিয়ারে ত্রুটিতেও ট্রেনের চাকা পড়ে যেতে পারে। গত ২৩ জুন রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপবন ট্রেনের ৬টি বগি লাইন থেকে পড়ে ৪ যাত্রীর প্রাণহানির পর তদন্ত কমিটি রেলপথে ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায়ি করে। তারপরও ফেঞ্চুগঞ্জ, কুলাউড়াসহ বিভিন্ন স্থানে রেল সেতু সংস্কার করা হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, প্রায় দুই কিলোমিটার পর পর রেলপথ দেখভাল করে গ্যাং নামে রেলের কর্মী বাহিনী। কিম্যান, ওয়েম্যান, গ্যাংম্যানদের রেলপথ নিয়মিত পাহারা দেয়ার কথা। কিম্যান রেলপথে এক পাশ দিয়ে একবার হেঁটে অন্য পাশ দিয়ে ফিরে আসে। তাতে নাটবল্টু, ক্লিপ, ফিশপ্লেট ঠিকঠাক আছে কিনা ধরা পড়ে। নুড়িপাথর না থাকলে ঊর্ধ্বতনদের জানানোর দায়িত্ব ওয়েম্যানদের। কিন্তু কিম্যান ও ওয়েম্যানের কাজের সমন্বয়কারী গ্যাংম্যানদের মাঠে পাওয়া যায় না বলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ আসছে। কয়েকটি গ্যাং নিয়ে গঠিত ম্যাট। ম্যাটগুলোর কাজ দেখভাল করেন পরিদর্শক ও প্রকৌশলীরা।

এদিকে এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক আতিকুর রহমান জানান, রেলের পরিদর্শকরা মাঠে নিয়মিত যান না। কোনো এলাকায় বছর গেলেও পরিদর্শন করা হয় না বলেও আমরা জানতে পেরেছি।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!