ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পিবিআই এর তদন্ত : আসামীদের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন (জামালপুরের খবর)        শ্রীবরদীতে আটশ কৃষক পেল সরিষা বীজ ও সার (জেলার খবর)        জামালপুরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আছিয়ার বিশেষ অলিম্পিক জয় (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে সাবেক ফারর্মাস ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনিয়মনের অভিযোগ: ঋণ গ্রহিতাদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান (জেলার খবর)        শেরপুরে তিন দিন যাবত দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ : জন দুর্ভোগ চরমে (জেলার খবর)        সরকার টেনিস খেলাকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)        শাস্তির জন্য নয়, নতুন আইন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে: সেতুমন্ত্রী (জাতীয়)        ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন স্পষ্ট অক্ষরে লিখতে হাইকোর্টের নির্দেশ (আইন ও বিচার)        ৬ লাখ ১১ হাজার মেট্রিকটন লবণ মজুদ রয়েছে: শিল্পমন্ত্রী (জাতীয়)        রাজশাহী মেডিকেলের ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে রোগীর আত্মহত্যা (দেশজুড়ে)      

ফিটনেসহীন গাড়ি, অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Logo Missing
প্রকাশিত: 09:07:24 pm, 2019-10-22 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

ঢাকা ডেক্স:

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাস্তায় ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং ওভারটেকিংয়ের মত অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওভারটেকিং নামক অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং ফিটসেসবিহীন গাড়িকে সড়কে চালনা করা দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, কেউ যদি অহেতুক নিয়মের বাইরে গিয়ে গাড়ি বা ট্রাকের আকার পরিবর্তন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আমাদের ট্রাফিক পুলিশকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড্রাইভারদেরও দোষ রয়েছে, কোন গাড়ি তাদের ওভারটেক করলে যেন মাথা খারাপ হয়ে যায়, ঐ গাড়িকে তাদেরও ওভারটেক করতেই হবে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি বলেন, একটি রাস্তা কেমন লোড নিতে পারে, একটি সড়কে কি ধরনের দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে তার একটি আকার নির্দিষ্ট করা থাকে। অথচ, আমাদের দেশে দেখা যায় অধিক মুনাফার আশায় আসন বৃদ্ধির জন্য বা অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের জন্য ক্ষেত্রে বিশেষে এক্সট্রা ক্লাম দিয়ে দু’পাশে বেআইনীভাবে গাড়ির আকার বাড়িয়ে নিচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। অতীত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৈরি করা এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হলেও পরবর্তীতে তা থেমে যাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তন এবং নতুন ঋতু আগমনের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের বিষয়টি ভুলে যাওয়ার মত বৈশিষ্ট্য আমাদের মানসিকতা বলেও উল্লেখ করেন। আর এ বিষয়টি আমাদের সড়ক আন্দোলনে নেতৃত দানকারী বা আন্দোলনকারীদের দৃষ্টিতে কেন আসেনি সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে তাঁর সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক নিরাপদ করতে গেলে সব থেকে বেশি যেটার প্রয়োজন সেটা হচ্ছে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষদের একটা প্রবনতা হচ্ছে দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সবথেকে বেশি গালমন্দ করা হয়। তিনি চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের ক্রুটি-বিচ্যুতি ঘটার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েই বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কিন্তু কেবল চালক নয় পথচারিরাও অনেকাংশে দায়ী। কারণ ফুটওভার ব্রীজ, আন্ডারপাস, ওভার পাস থাকার পরেও দেখা যায় যে পথচারিরা রাস্তার মাঝ খান দিয়ে পারাপার হচ্ছে, ফুটপাত ব্যবহার করছে না। একটি চলন্ত গাড়িকে কেবল হাত দেখিয়ে দৌড় দিয়ে বা মোবাইলে কথা বলতে বলতেই তারা রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গড়িটাতো একটা যন্ত্র। কাজেই ব্রেক কষলেওতো থামতে এর কিছুটা সময় লাগে। কাজেই এই বোধটা বা জ্ঞানতো তাদের থাকতে হবে। সেইসাথে সড়ক চলাচলের যে আইন রয়েছে তাওতো মেনে চলতে হয়। এসব বিষয়ে সচেতনাও সৃষ্টি করা হয় না। তিনি দেশের স্কুল পর্যায়ে ট্রাফিক আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকার প্রধান বলেন, এজন্য স্কুল-কলেজ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে অধিক জনবল কাজ করে তাদের মাঝে ট্রাফিক আইন বা ট্রাফিক রুল বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেয়াটা একান্তভাবে প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা- এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। বা গাড়ি চালকের না। পথচারী থেকে শুরু করে জনগণের, সব নাগরিকের দায়িত্ব। সবাই যার যার দায়িত্ব হিসেবে পালন করবেন। তিনি বলেন, যারা পথচারী তাদের নিজেদের দায়িত্ব আছে। যারা গাড়িতে চলেন, তাদের দায়িত্ব আছে। বা যারা গাড়ি চালান, তাদেরও দায়িত্ব আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। দেশটা আমাদের। একটা মানুষের ক্ষতি হলে, সে যে-ই হোক, সে তো কোনো না কোনো পরিবারের ভবিষ্যৎ। ওই পরিবারের কী হয় সেটাও পরে চিন্তা করতে হয়। চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় গাড়ি না চালানো, দূরপাল্লার যানবাহনে বিকল্প ড্রাইভারের ব্যবস্থা রাখা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা, চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া, গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাসহ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চালকদের যথাযথ বিশ্রাম, সময় মতো খাবার নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা এবং হেলপারের হাতে গাড়ি চালাতে না দেওয়ারও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, চলাফেরায় সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। নিজেকে দায়ী করতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটলে দেখতে হবে কার দোষ আসলে। পথচারীদের নিজেদের দায়িত্ব আছে। যারা চালান তাদেরও দায়িত্ব আছে। পেছনে দেখে চলতে হবে। দায়িত্ব নিজের। এটা সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথের ক্ষেত্রেও। রেলপথে আরও সতর্ক হতে হবে ক্রসিংয়ে গেলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটাতো একটা যান্ত্রিক বিষয়। ট্রেন চলে আসলো, সামনে ক্রসিং, লক্ষ্য রেখে যেতে হবে। না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা দরকার। আবারও বলছি সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। শুধু চালককে দুষলে হবে না। এ ছাড়া আমরাও সড়ক উন্নয়ন করছি। দুর্ঘটনা কমে এসেছে। সচেতন হলে একেবারেই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, চারলেনের রাস্তা করার ব্যবস্থা করছি সারাদেশে। ইতোমধ্যে অনেক সড়ক চারলেন হয়ে গেছে। যাতে দুর্ঘটনা কমে সেভাবে কাজ করছি। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিলাম কিছুটা। এবার আর সেটা নেই। সব পরিবর্তন হবে যান চলাচলে। এমনকি চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থাও করছি। ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চালকদের বিশ্রাম এবং উন্নত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো আমরা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান একাব্বর হোসেন এমপি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দোকার এনায়েত উল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। উল্লেখ্য, সড়কে যানবাহন এবং পথচারিদের চলাচলের ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে এই দিনটি সারাদেশে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শোভাযাত্রা, পোস্টার ও হ্যান্ডবিল বিতরণ, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন এবং আলোচনা সভাসহ নানামুখি কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়।’