ঢাকা   ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বিজয় দিবসে যান চলাচলে ডিএমপির নির্দেশনা (জাতীয়)        ড. কামালের আচরণ ষড়যন্ত্রের একটি অংশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (রাজনীতি)        নির্বাচনী প্রচারণায় বুধবার সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী (রাজনীতি)        লালমনিরহাট সীমান্তে রাবার বুলেটে ৪ বাংলাদেশি আহত, বিএসএফের দুঃখ প্রকাশ (জেলার খবর)         ভাষাসৈনিক বিমল রায় চৌধুরী আর নেই (জাতীয়)         বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ (জাতীয়)        আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রকাশ মঙ্গলবার (রাজনীতি)         সন্ত্রাস করলে কোনো দলই ছাড় পাবে না: ইসি রফিকুল (জাতীয়)        স্বরূপে ফিরতে পারেননি ড. কামাল: ওবায়দুল কাদের (রাজনীতি)        শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকব: ফখরুল (রাজনীতি)      

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প বাতিল হলেও পেট্রোবাংলাকে আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে

Logo Missing
প্রকাশিত: 05:35:37 pm, 2018-10-04 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্স

ভেস্তে গেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ। সাড়ে ৩শ কোটি টাকা খরচ করেও পেট্রোবাংলা খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। বরং কাজ অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। আর বাতিল হওয়ার পরও পেট্রোবাংলাকে প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে নেয়া ২৫০ কোটি টাকা ঋণের ৫ শতাংশ হারে সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাছাড়া কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা ও বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মোট ৮৪৫ কিলোমিটার গ্যাস বিতরণ লাইন নির্মাণের জন্য কেনা ১৪৮ কোটি টাকার পাইপও পড়ে আছে। অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে ওসব পাইপ বিক্রির কথা থাকলেও এখনো তা অবিক্রীতই রয়ে গেছে। খুলনার শিরোমনি এলাকায় স্তূপাকারে ফেলে রাখা হয়েছে চীন থেকে আমদানি করা ওসব পাইপ। পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০০৯ সালে পাস হওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় মোট ৬শ কোটি টাকা। তার মধ্যে এডিবির কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হয় ২৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আগে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ও করেছে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পটি সরকারের নির্দেশেই নেয়া হয়েছিল। আর গ্যাস না থাকায় সরকারই সেটি বন্ধ করেছে। ফলে প্রকল্পটি নেয়ার পর বরিশাল ও খুলনায় গ্যাস বিতরণের জন্য সৃষ্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ওই ঋণ পরিশোধের যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। যদিও চুক্তির সময় কোম্পানি গঠন ও ওই কোম্পানি ঋণ পরিশোধ করবে বলা হয়েছিল। তবে কোম্পানির আয় না থাকায় তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবে না বলে পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে। ফলে সুদসহ ঋণের অর্থ কে পরিশোধ করবে পেট্রোবাংলার পর্ষদ সভায় তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সভায় অর্থ বিভাগ থেকে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করার জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী জ্বালানি বিভাগে একটি চিঠিও দেয়া হয়। তারপর ওই বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে চুক্তিটি যেহেতু পেট্রোবাংলা করেছে, সুদসহ ঋণও তাদেরই পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিদেশী ঋণের ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইআরডি। পরে ইআরডি ওই টাকা পরিশোধ করে। আর টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা ইআরডির বিবেচ্য নয়। ইআরডির বরাদ্দ থাকে, তা থেকে ঋণ পরিশোধ করা হয়। তবে এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে একটি সাবসিডিয়ারি লোন এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) হয়। সে অনুযায়ী ইমপ্লিমেন্টিং এজেন্সি প্রকল্পের মালিক ঋণের টাকা সরকারকে পরিশোধ করে। সরকার ইআরডির মাধ্যমে তা ঋণদাতাকে পরিশোধ করে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে ওই সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করে সরকার। এডিবি ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক একটি প্রকল্পও ২০০৯ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়। খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া- ওই পাঁচ জেলার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ২০১১ সালে গঠন করা হয় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। বিতরণ লাইন ও মিটারিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপ-যন্ত্রপাতি কেনা হয়, সম্পন্ন হয় ভূমি অধিগ্রহণও। ওসব কাজে ব্যয় হয় ৩৫০ কোটি টাকার বেশি। প্রকল্প শুরুর ৭ বছরে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলায় ৮৪৫ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু করতেই ব্যর্থ হয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা। ফলে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প সমাপ্তের নির্দেশ দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সেই সঙ্গে প্রকল্পের জন্য কেনা পাইপ ও যন্ত্রাংশ বিক্রিরও নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্র আরো জানায়, চীন থেকে আমদানি করা প্রায় ১১ হাজার টন এপিআই পাইপ প্রকল্প বাতিলের পর থেকেই খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। সেগুলো কিনতে পেট্রোবাংলা রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানিকে নির্দেশ দিলেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মরিচা পড়া ওসব পাইপের মান নিয়ে শঙ্কা থাকায় তা ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। চীন থেকে আমদানি করা ওসব পাইপ খুলনার শিরোমনি এলাকায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আবাসিক সংযোগের জন্য আনা প্রায় ১৫০ কোটি টাকার পাইপ একটি পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে আছে। রোদ-বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরিচা ধরে সেগুলো অনেক আগেই রঙ হারিয়েছে। পাইপের গায়ে মরিচার পুরু স্তর জমেছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাতিল হওয়া প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল ইসলাম জানান, আবাসিক খাতে গ্যাস বিতরণের জন্য প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্যাস না থাকায় পেট্রোবাংলা, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এডিবি ও বাংলাদেশ সরকার দেড় বছর আগে প্রকল্পটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আর পাইপসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ পেট্রোবাংলার অন্যান্য কোম্পানির কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো পাইপ নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ জানান, এসএলএ অনুযায়ী সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির এ ঋণ পরিশোধ করার কথা। তবে কোম্পানিটির যে অবস্থা, তাতে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা তাদের নেই। সম্ভবত পেট্রোবাংলাই এই ঋণ পরিশোধ করবে।