ঢাকা   ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সরিষাবাড়ীতে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)        বকশিগঞ্জ শিক্ষার্থীবিহীন দুস্থ্য প্রতিবন্ধী কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : ৯ প্রতিবন্ধীর শিক্ষাবৃত্তি (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উরশ (জেলার খবর)        শ্রীবরদীতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচেতনতা শীর্ষক প্রচার, প্রেস ব্রিফিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত (জেলার খবর)        একনেকে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন (জাতীয়)        পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক: টিআইবি (জাতীয়)        চীনকে মাস্ক-গ্লাভসসহ চিকিৎসা সামগ্রী দিল বাংলাদেশ (জাতীয়)        কচুরিপানা খেতে বলিনি, গবেষণা করতে বলেছি: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী মেলেনি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ (জাতীয়)        শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়: সেনাপ্রধান (জাতীয়)      

শেরপুরের ব্র্যান্ডিং সুগন্ধি চাল তুলশীমালা ঘ্রান ছড়াচ্ছে দেশে-বিদেশে

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:33:45 am, 2020-01-21 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

শেরপুর প্রতিনিধি:

সম্প্রতি সারাদেশের প্রতিটি জেলায় জেলা ব্রান্ডিং নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা স্থানীয় বিভিন্ন পণ্য, খাদ্য ও দর্শনীয় স্থান সুপরিচিতি লাভ করেছে। যেমন খাদ্যের মধ্যে বগুড়ার দই, টাঙ্গাইলের চমচম, ময়মনসিংহের মন্ডা, কুমিল্লার রসমালাই, চাঁদপুরের ইলিশ ইত্যাদি দেশ জুড়ে খ্যাতি রয়েছে। ঠিক তেমনি শেরপুরের ছানার পায়েশেরও জুড়ি নেই।

তবে সম্প্রতি শেরপুর জেলা ব্র্যান্ডিং নির্ধারন হয়েছে পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে। এরপর থেকেই শেরপুর জেলার ব্র্যান্ডিং সুগন্ধি চাল তুলশীমালা সম্প্রতি জেলার বাইরে বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। শুধু দেশেই নয় তুলশীমালা এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশেও বিস্তার লাভ করছে। এমন সুগন্ধি ও সুস্বাধু চালের ভাত থেকে শুরু করে পোলাও, রিবিয়ানী, খিচুরি, ফিন্নি-পায়েশসহ বিভিন্ন মজাদার খাবার তৈরীতে তুলশীমালার বিকল্প নেই।

দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা প্রজাতির সুগন্ধি ধানের চাল উৎপাদিত হলেও শেরপুরের সুগন্ধি চাল তুলশীমালা’র বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে জেলা ওয়েবসাইট ‘আওয়ার শেরপুর’ শেরপুরের সুগন্ধি চাল ও জেলা ব্র্যান্ডিং তুলশীমালাকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে ফেইসবুকের মাধ্যমে ব্যপক প্রচার চালিয়েছে। ফলাফলও বেশ ভালো হয়েছে।

সাধারণত তুলশীমালা চাল এখানে ৫০ কেজি বস্তা থেকে খুচরা বিক্রেতারা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। আওয়ার শেরপুর এটাকে দেশ বিদেশে চাহিদা বাড়াতে ১ কেজি সাইজের প্যাকেট জাত করে অনলাইন ও ফেইসবুকে প্রচারণা চালিয়ে ছাড়িয়ে দিচ্ছে এর নাম ও সুনাম। প্রতিদিনই বাড়ছে এর চাহিদা। তুলশীমালা সুগন্ধি চালের বিষয়ে বিশেষ করে এ চাল দিয়ে বিভিন্ন সুস্বাধু খাবার রান্না করে তা ইতিমধ্যেই ফেইসবুকে পোষ্ট করায় ব্যাপক ভাবে প্রসার ঘটছে। উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) ফেইসবুকে গ্রুপ থেকে নেয়া বিভিন্ন জনের মন্তব্য-
ফাতেমা-তুজ-জহুরা রজনী তার ফেইসবুক পোস্টে তুলশীমালা নিয়ে লিখেছেন, আমার সংসারে একমাত্র ইন্ডিয়ান পণ্য হচ্ছে দাওয়াত বাসমতী চাল আর পাকিস্তানি পণ্য হচ্ছে শান বিরিয়ানির মসলা। আওয়ার শেরপুরের দেলোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে তুলশীমালা আনার পরে হঠাৎ করে পিঠা শপের আনিস ভাই কল দিলেন যে, উনি আসবেন। তখনই আমি তুলশীমালা রান্না করি। এরপর ভাইয়ায় সাথে খেতে খেতে জীবনের প্রথমবারের মতন বুঝলাম যে ভাতেরও স্বাদ হয় ! এই তুলশীমালা খেতে এতই মিষ্টি যে আমার মনে হয়েছে এটা এমনিতেই খাওয়া যায়। আমার মেয়ে ও মজা করে খেয়েছে।

মাশিয়াত মাসুদ মুমু তার ওয়ালে লিখেছেন, তুলশীমালার ইলিশ পোলাও, সাতক্ষীরা শপের ঘি”, সকাল বেলা ঘুমই ভাঙলো আমার হাজব্যান্ডের হইচই। আম্মু নাকি বিশাল মজার এক ডিশ বানিয়েছে। উঠতেই টেবিলে দেখি ইলিশ পোলাউ আর চিংড়ির মালাইকারী। আম্মু বললো "আরেহ তোমার চাল আর ঘি তো কামাল করে দিসে।" আম্মু আর আমার জামাই এর ভাষ্যমতে চাল আর ঘি দুইটাই একদম অরিজিনাল। দুইটার ঘ্রাণই একদম মনমাতানো। আমার জামাই তো অলরেডি দেশের বাইরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করবে আর সেখানে এই চালের তৈরি খাবার রাখবে এই ঘোষণা দিয়ে দিসে। আমার এটা শোনার পর মনে হচ্ছে মাত্র ২ কেজি না নিয়ে আরো বেশি নেয়া উচিৎ ছিল।

ফারিয়া আবেদীন রাফার লেখা, তুলশীমালা পুরাই বাজিমাত করে ফেলেছে। তুলশীমালা দিয়ে পায়েস অনেক মজা হয়েছে, আমি পুরা এক বাটি খেয়ে ফেলসি। ভাবতেসি মেয়ের খিচুুড়ি, সুজির জন্যে ভাঙ্গিয়ে নিবো।
জেলা ওয়েবসাইট ‘আওয়ার শেরপুর’ এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, শেরপুর জেলাকে ফেইসবুক আর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে আমি দুই বছর ধরে কষ্ট করে যাচ্ছি। এতদিনে এর সুফল দেখতে পাচ্ছি বলা যায়। তুলশীমালা শেরপুরের গর্ব এবং অনেকেই আমাকে বলেছে যে এই চাল খেতে সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং খাবার পর আরাম লাগে শরীরে। উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) থেকে আমি সর্বাত্বক সাহায্য পেয়েছি। তারা দেশী পণ্য নিয়ে অনলাইনে প্রতিদিন কাজ করছে এবং এর সুফল আমি নিজেই পেয়েছি। তুলশীমালার শতভাগ কাস্টমারই এই গ্রæপের। ফারহানা কানন লাকী ফেসবুকের মাধ্যমে ৫ কেজি চালের অর্ডার করেন এবং সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে পার্সেল হাতে পেয়ে এ চালের ভাত খাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেন কোরিয়ায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়মিত তুলশীমালা চাল পাঠাবেন। চলতি মাসের ২৫ তারিখে কোরিয়ায় পাঠানোর জন্য ২০ কেজি চাল অর্ডারও করেছেন।

এদিকে জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছর জেলায় ১৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে তুলশীমালা ধানের আবাদ লক্ষমাত্রা অর্জন হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৮০০, নকলায় ২ হাজার ৫৯০, নালিতাবাড়িতে ৪ হাজার ৬০, ঝিনাইাগাতিতে ২ হাজার ১১০ এবং শ্রীবরর্দী উপজেলায় ৯৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এতে চাল হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৬৩৭ মেট্রিক টন।
এবিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, সম্প্রতি তুলশীমালাকে জেলা ব্র্যান্ডিং করে জেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কারণে এর আবাদ এবং চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।