ঢাকা   ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  সরিষাবাড়ীতে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত (জামালপুরের খবর)        বকশিগঞ্জ শিক্ষার্থীবিহীন দুস্থ্য প্রতিবন্ধী কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : ৯ প্রতিবন্ধীর শিক্ষাবৃত্তি (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উরশ (জেলার খবর)        শ্রীবরদীতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচেতনতা শীর্ষক প্রচার, প্রেস ব্রিফিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত (জেলার খবর)        একনেকে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন (জাতীয়)        পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক: টিআইবি (জাতীয়)        চীনকে মাস্ক-গ্লাভসসহ চিকিৎসা সামগ্রী দিল বাংলাদেশ (জাতীয়)        কচুরিপানা খেতে বলিনি, গবেষণা করতে বলেছি: পরিকল্পনামন্ত্রী (জাতীয়)        দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী মেলেনি, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ (জাতীয়)        শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়: সেনাপ্রধান (জাতীয়)      

চীনের ভাইরাস ঠেকাতে বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:26:02 am, 2020-01-22 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা. ডেক্স:

চীনের রহস্যজনক নতুন ভাইরাস সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমের (এসএআরএস) বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে চীন থেকে আগত যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনের নতুন ভাইরাস যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে, সেজন্য নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার চীন থেকে আসা তিনটি সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের ফিজিক্যাল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে স্থাপিত থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে আসার সময় সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাধারণত কারও শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দেয়। এ হিসেবে ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেনটাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হবে। এরপর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওই যাত্রীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। জানা গেছে, ঢাকা-চীন-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ছয়টি ফ্লাইট যাওয়া-আসা করে। এসব এয়ারলাইন্স যোগে প্রতিদিন চীন ও বাংলাদেশে বেশ কিছু যাত্রী আসা-যাওয়া করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্লেন সংস্থাকে এ সম্পর্কে অবহিতও করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল আহসান বলেন, যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ এসএআরএস এ ভাইরাস প্রতিরোধে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিভিল অ্যাভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বিমানবন্দরে কাজ করছেন।

সতর্ক চট্টগ্রাম বিমানবন্দরও: চীনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকার মতো চট্টগ্রামের শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জামান বলেন, বিমানবন্দরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে চীনের কোনো এলাকার সরাসরি ফ্লাইট নেই। চীন থেকে কোনো যাত্রী দুবাই বা ভারত হয়ে চট্টগ্রাম এলে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে বিমানবন্দর এলাকায় এ ভাইরাসের বিষয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জামান। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুদিনে সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ জন। শুরুতে উহান প্রদেশে এই রোগ দেখা দিলেও এখন বেইজিং, সাংহাই ও সেনঝেন প্রদেশেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এরইমধ্যে চার জন মারা গেছেন। জাপান, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ায়ও ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। করোনাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সঞ্চারিত হয়। শ্বাসতন্ত্রের এ রোগে সর্দিজ্বর হয়, সেই সঙ্গে মাথা ব্যথা, গলা ব্যাথা, কাশি ও শরীরে অস্বস্তি বোধ হয়। উপসর্গগুলো অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। গবেষকরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে তো বটেই, হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস পরিবারের নতুন এই ভাইরাসটির প্রথম সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে। বাংলাদেশে এখনও এ রোগে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত না হলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বিমানবন্দরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যেসব যাত্রী চীন থেকে আসছেন, তারা যেন এয়ারপোর্টের থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে যান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কারও জ্বর পাওয়া যায়, তা হলে আমরা ধরতে পারব। চীন থেকে আসা যাত্রীদের দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে একটি হেলথ কার্ড তৈরি করছে আইইডিসিআর। আসার সময় জ্বর না থাকলেও চীন থেকে আসার ১৪ দিনের মধ্যে যদি কারও জ্বর হয়, তা হলে তাদের আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে বলা হবে।