ঢাকা   ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ৭ মার্চ জাতীয় দিবস ঘোষণার নির্দেশ হাইকোর্টের (জাতীয়)        অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করানোয় স্বামীকে হত্যা করে প্রতিশোধ (অপরাধ)        প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়া গ্রেফতার: ওবায়দুল কাদের (অপরাধ)        প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ১৭২ শিক্ষার্থী (শিক্ষা)        পিলখানা ট্র্যাজেডি: নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা (জাতীয়)        বিরোধী দলকে হয়রানি ও ক্ষমতাসীনদের প্রতি নমনীয় দুদক: টিআইবি (বাংলাদেশ)        নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলতে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি (বাংলাদেশ)        এনু-রুপনের আরেক বাড়িতে অভিযান, পাঁচ সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার (জাতীয়)        পিলখানা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করবে বিএনপি: ফখরুল (রাজনীতি)        জ্বর নিয়ে বাংলাদেশে এসে হাসপাতালে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক (জাতীয়)      

গারো পাহাড়বাসী বন্য হাতি আতঙ্কে রাত কাটে নির্ঘুম : ৫০ টর্চলাইট ৩টি জেনারেটর বিতরণ

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:59:28 am, 2020-01-26 |  দেখা হয়েছে: 6 বার।

সাইফুল ইসলাম:

গারো পাহাড়ে হাতি আর মানুষ যুদ্ধ করে যাচ্ছে বিগত প্রায় ১ যুগ যাবত। সম্প্রতিকালে বন্য হাতির সঙ্গে নিরীহ পাহাড়ীবাসি জীবন যুদ্ধে অনেকটা পরাজয় অবস্থা। বিগত ১ মাসের মধ্যে গারো পাহাড়ে বন্য হাতির সঙ্গে যুদ্ধ লড়ে ২ জনের মৃত্যু সহ ১ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়ে জীবন যুদ্ধে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানাগেছে, গারো পাহাড় পূর্বের রূপ নেই। প্রাকৃতিক গাছ গাছালী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ঝর্ণাগুলোতে পানি শূণ্য অবস্থা। উঁচু নিচু পাহাড়ী টিলায় অনেক জায়গায় শোভা পায় শাক সবজীর চাষাবাদ। এছাড়াও পরিবেশ বিধ্বংসী গাছের বাগান করে এক শ্রেণির মুনাফাখোর সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। পূর্বে পাহাড়ের আদি রূপ ছিল হাজার হাজার প্রকারের গাছ গাছালী গেøাম। পাহাড় জুড়ে ছিল হাতির খাবারের যোগ্য প্রধান খাদ্য কলাগাছ। ছিল বিভিন্ন প্রকার লতাপাতা। ছিল স্বচ্ছ পানির ¯্রােতশিণী ঝর্ণা। বন্য হাতি পাল পাহাড়ে খাবার খেয়ে ঝর্ণার পানিতে মনের আনন্দে জলকেলী করতো। আবার গহীন অরণ্যে ফিরে যেত। দূর থেকে পাহাড়ীবাসি হাতি মামাদের রাজকীয় ভঙ্গিতে চলাফেরা দেখে আনন্দ ভোগ করতো। পাহাড় জুড়ে ছিল বাঘ, ভালুক, বন্যশুকর, বনগরু, বন মহিষ, হরিণ সহ নানা প্রজাতির বন্য পশু-পাখি। বন মোরগের হাক-ডাকে পাহাড়ীবাসি সময় গণনার সঙ্গে মিলিয়ে নিত। ভোর বেলায় মোরগ ডাকের সঙ্গে সময় মেলাতো ফজরের নামাজের সময় হয়েছে। দুপুরে মোরগের ডাকের সঙ্গে সময় মেলাতো যোহরের নামাজের সময় হয়েছে। এমনিই ভাবে আছর মাগরিবের নামাজের পাহাড়ী বন্য মোরগের ডাকের সঙ্গে সময় মেলাতো বলে জনশ্রæতি রয়েছে। শিয়ালের হাক-ডাক রাত্রিতে হরহামেশায় শোনা যেত। বর্তমান সময়ে প্রশাসনের দূর্বলতাকে পুঁজি করে পাহাড়ের গাছ গাছালী কেটে ছেটে গারো পাহাড়ের আদি রূপ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলেছে। পাহাড় পূর্ব রূপ বলতে উঁচু-নিচু টিলা ছাড়া কিছুই নেই। পাহাড়ের সিংহভাগ অংশ চাষাবাদের আওতায় এনেছে। রীতিমতো চাষাবাদ হয়। বন বিভাগের সাথে আতায়াত করে প্রভাবশালীরা বন্দবস্ত নিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী গাছের বাগান করে থাকে। পালাই পালাই করে পাহাড়ের জীব জন্তু শতভাগের মধ্যে ১০ ভাগও নেই। এখন আর শোনা যায় না বাঘের গর্জন, শিয়ালে হাক-ডাক, বন মোরগের কু-ক্কু-রু-কু, পাখ-পাখালীর কিচিরমিচির। বাংলাদেশ-ভারত গারো পাহাড়ের সমস্ত সীমানা জুড়ে ভারতীয়দের নির্মাণ কাঁটা তাঁরের বেড়া। কিছু দূর পর পর যাতায়াতের জন্য গেইট রয়েছে। ভারতের গহীন অরণ্য থেকে সময়ে অসময়ে সীমান্তের কাঁটা তাঁরের গেইট গলিয়ে হাতি পাল ঢুকে পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ে। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকায় ধানী মৌসুমে বন্য হাতি পাল পাহাড়ে খাদ্য না পেয়ে ক্ষেতের ধান খেয়ে তছনছ করে থাকে। পাহাড়ে ঘর-বাড়ীতে হানা দিয়ে গোলার ধান খেয়ে সাবার করে ফেলে। এসময় ঘরবাড়ি ভেঙ্গেচুরে একাকার করে দেয়। অসহায় পাহাড়ে বসবাসরত বালুরচর, যদুরচর, সাতানীপাড়া, বালুঝুড়ি, সোমনাথপাড়া, টিলাপাড়া, গারামারা, দিগলাকোণা, হাতিবেরকোণা, ডুমুরতলা, বৈষ্ণবপাড়া, লাউচাপড়ার গ্রামবাসীরা বিগত প্রায় ২ মাস যাবত বন্য হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছে।

বন্য হাতি পালের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে নিরীহ পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মাঝে জামালপুর জেলা প্রশাসক গতকাল ২৪ জানুয়ারি ৫০টি টর্চলাইট ও ৩টি জেনারেটর আলোকফাঁদ তৈরীর মাধ্যমে হাতি তাড়ানোর জন্য প্রদান করেছে। ধানুয়া কামালপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয়ে টর্চলাইট ও জেনারেটর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। সভাপতিত্ব করেছেন বকশিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার। পাহাড়ী আদিবাসীদের মধ্য হতে বন্য হাতির তান্ডব নীলা বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন আদিবাসী নেতা হোসিও ম্রং।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!