ঢাকা   রবিবার ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বন্যা ও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে- আবুল কালাম আজাদ (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে দুই বৎসর পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করল সিআইডি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি: নিম্নাঞ্চলে কমছে ধীর গতিতে (জামালপুরের খবর)        অবহেলিত ঘোড়াধাপের রাস্তা-ঘাট সংস্কার করলেন আনছার আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে এক শিশু নারায়গঞ্জ ফেরত এক ব্যক্তিসহ ৭ জনের করোনা শনাক্ত , আক্রান্ত ৬৪৯ (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে ঐতিহাসিক কাটাখালি যুদ্ধ দিবসে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ (জেলার খবর)        শিগগিরই গ্রেফতার হবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ: র‌্যাব (জাতীয়)        ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় সংসদে বিল পাস (জাতীয়)        করোনা নিয়ে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: কাদের (জাতীয়)        আরও ৩৪৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৬ জনের (জাতীয়)      

গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদ শূন্য রেখেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:54:56 pm, 2020-02-01 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা. ডেক্স:

দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই গুরুত্বপূর্ণ একাধিক শীর্ষ পদ শূন্য রেখেই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে ওসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত¡াবধান করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার। ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, একাডেমিক কমিটি, অর্থ কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়ে। তার মাধ্যমেই ওসব কমিটির সদস্য মনোনীত, ডীন, বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই শীর্ষ পদগুলো থাকছে দীর্ঘ সময় ধরে ফাঁকা। একটি দুটি নয়, তিনটি পদই ফাঁকা রয়েছে এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়। মূলত বড় অঙ্কের বেতনের খরচ বাঁচাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকপক্ষ শীর্ষ পদগুলো খালি রেখে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে- উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে ওসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সনদ বিক্রির ব্যবসায় নেমেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ভিসি ছাড়াই চলছে। ৭০টিতে প্রো-ভিসি নেই। আর ট্রেজারার ছাড়া চলছে ৫০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁকা রয়েছে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এই তিনটি পদই। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারারের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুসারে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে পূর্ণকালীন নিয়োগ দেয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে মধ্যে ৯২টিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কেবল ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এই তিন পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অর্জিত ডিগ্রির মূল সনদ ভিসি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত হতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চার বছর মেয়াদে প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি, এবং ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেবেন। কাজেই ওসব পদে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেয়া আইনের পরিপন্থী। কিন্তু অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার না থাকা আরেকটি বড় সমস্যা। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের অনাগ্রহেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ওসব পদে কাউকে নিয়োগ না দেয়ায় থাকছে না জবাবদিহিতা। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমও। ট্রেজারার না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সব সময় আইন মেনে চলার জন্য বলা হয়। তবে অনেক সময় নির্দিষ্ট পদের জন্য যোগ্য শিক্ষক পাওয়া যায় না। সেজন্য কিছুদিন পদশূণ্য থাকে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ জানান, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগ্রহ কম। অবশ্যই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক অবস্থা প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইউজিসি।