ঢাকা   রবিবার ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বন্যা ও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে- আবুল কালাম আজাদ (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে দুই বৎসর পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করল সিআইডি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি: নিম্নাঞ্চলে কমছে ধীর গতিতে (জামালপুরের খবর)        অবহেলিত ঘোড়াধাপের রাস্তা-ঘাট সংস্কার করলেন আনছার আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে এক শিশু নারায়গঞ্জ ফেরত এক ব্যক্তিসহ ৭ জনের করোনা শনাক্ত , আক্রান্ত ৬৪৯ (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে ঐতিহাসিক কাটাখালি যুদ্ধ দিবসে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ (জেলার খবর)        শিগগিরই গ্রেফতার হবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ: র‌্যাব (জাতীয়)        ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় সংসদে বিল পাস (জাতীয়)        করোনা নিয়ে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: কাদের (জাতীয়)        আরও ৩৪৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৬ জনের (জাতীয়)      

নামের দাম ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা

Logo Missing
প্রকাশিত: 12:03:20 pm, 2020-02-10 |  দেখা হয়েছে: 141 বার।

মোহাম্মদ আলী:

মাইকিং করেও ঠেকানো গেল না ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে স্বর্ববৃহত্ত প্রকল্প (ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেষ্ট)-যত্ন প্রকল্পের দুর্নীতি। গ্রামের দরিদ্র পীড়িত আবেদনকারীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে কতিপয় জনপ্রতিনিধিরা আদায় করে নিয়েছেন ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। পাড়ায় পাড়ায়, হাট বাজার, দোকান পাটে, আড্ডায় অবসরে সব জায়গায় আলোচনা সমালোচনা এখন একটিই। অপরদিকে নিজের নামটি বাদ পড়ে যেতে পারে, এই ভয়ে লেনদেনের কথা স্বীকার করছেন না তালিকভূক্তরা।
দেশের দুইটি বিভাগ ময়মনসিংহ ও রংপুরের ৭টি জেলার ৪৩টি উপজেলার ৪শ ৪৪ ইউনিয়নে চলছে ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেষ্ট যত্ন প্রকল্পের কাজ।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের অধীনে শর্ত স্বাপেক্ষে গ্রামের দরিদ্রসীমার নীচে পরিবারের মা ও শিশুর শারিরীক এবং মনোদৈহিক স্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষ্যে শূণ্য থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে ( ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেষ্ট ) যত্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। দেশের পরিবার পরিকল্পনা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রকল্পে ০-৪৮ মাস বয়সের শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের মায়েরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। তালিকাভূক্ত সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ১৪শ টাকা করে পাবে। এছাড়া শর্ত পূরণে রয়েছে বোনাসের ব্যবস্থা।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুর, বকশিগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর তালিকাভূক্তদের ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে। একাজ করতে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধরা আবেদনকারীদের নাম তালিকায় উঠাতে গিয়ে আদায় করে নিয়েছেন ৩থেকে ৫হাজার টাকা। এমন অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প এলাকার প্রায় সবকটি ইউনিয়নে। যোগ্যতা থাকা সত্বেও শুধু টাকা দিতে না পারলে তালিকায় উঠেনি নাম, আর টাকা দিতে পারায় যোগ্য না হলেও নাম উঠছে তালিকায়।

এমন অভিযোগে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং ও প্রতিবাদসভা করেছেন এলাকাবাসী। ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও উঠেছে এমন অভিযোগ। অভিযোগ পাওয়া গেছে বকশিগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথমে প্রথমে তালিকা গঠনে টাকা নেওয়ার কথা আমার কানের এসেছিল। কিন্তু আমি যাচাই করতে গেলে কেউ আমার কাছে স্বীকার করেনি।
যত্ন প্রকল্পের দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগের তীরটি যার দিকে বেশি সেই চিনাডুলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুছ ছালামের মতামত সংগ্রহে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

বগারচর ইউপি চেয়ারম্যান, নজরুল ইসলাম লিচু বলেন, কারা কার কাছ থেকে কিভাবে টাকা নিচ্ছে বা দিচ্ছে তা আমার জানা নাই। তবে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কয়েক দফায় ভিজিট করেছেন। তারাও আমাকে কিছু বলেনি।
এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা সেফটিনেট প্রোগ্রাম সুপার ভাইজার, আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ মানেই দুর্নীতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তারপরেও আমরা আমাদের এ প্রকল্পটিকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তালিকাভূক্ত হতে বা করতে সব ধরণের আর্থিক লেনদেন না করার ব্যাপারে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে দিয়েছি। তারপর পরেও আর্থিক লেনদেনের খবর আমাদের কানে আসছে। জনপ্রতিনিধিদের অসৎ মানসিকতার জন্য সরকারের এ মহৎ প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করতে গেলে কেউ আমাদের কাছে স্বীকার করে না। যার কারণে আমরা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।