ঢাকা   ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়া গ্রেফতার: ওবায়দুল কাদের (অপরাধ)        প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ১৭২ শিক্ষার্থী (শিক্ষা)        পিলখানা ট্র্যাজেডি: নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা (জাতীয়)        বিরোধী দলকে হয়রানি ও ক্ষমতাসীনদের প্রতি নমনীয় দুদক: টিআইবি (বাংলাদেশ)        নিরাপদ খাদ্য আইন মেনে চলতে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি (বাংলাদেশ)        এনু-রুপনের আরেক বাড়িতে অভিযান, পাঁচ সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার (জাতীয়)        পিলখানা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করবে বিএনপি: ফখরুল (রাজনীতি)        জ্বর নিয়ে বাংলাদেশে এসে হাসপাতালে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক (জাতীয়)        তৃণমূল উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে সরকার (জাতীয়)        বিসিএলের টানা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলল দক্ষিণাঞ্চল (খেলাধুলা)      

খালেদার মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন আসেনি: ওবায়দুল কাদের

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:56:27 pm, 2020-02-14 |  দেখা হয়েছে: 5 বার।

আ.জা.ডেক্সঃ

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও আবেদন আসেনি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোন করেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে গতকালও (গত বৃহস্পতিবার) কথা বলে জানতে পেরেছি, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন আসেনি। খালেদা জিয়ার পরিবারের লোকজন ও দলের লোকেরা বিচ্ছিন্নভাবে তার মুক্তির বিষয়ে কথা বলছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের আবেদনটা জানাতে বলেছেন, মৌখিকভাবে। আমি সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি এটুকু বলতে পারি, এ ছাড়া কোনও লেনদেন বা কথাবার্তা হয়নি। কাল টকশোতে শুনলাম, তলে তলে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে, আমার মনে হয় বাস্তবে বিষয়টা তেমন কিছু নয়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি আগে থেকেই বলে আসছি, খালেদা জিয়ার এই মামলাটি রাজনৈতিক মামলা নয়। সরকারের বিবেচনার বিষয়টা তখনই আসে, যখন বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনার হয়। কিন্তু খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজা ভোগ করছেন। রাজনৈতিক মামলা হলে সরকারের পক্ষে বিবেচনার বিষয় ছিল। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা যাবে। তবে প্যারোল কি কি কারণে দেওয়া যায় এবং দোষী বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায় কিনা, আর তারা কি কি কারণে প্যারোলে মুক্তি চান, এসব বিষয় উল্লেখ করে লিখিতভাবে কোনও আবেদন তারা এখনও করেননি। খালেদা জিয়ার দল কিংবা পরিবার যদি আবেদন করেন তবে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘যদি’টা পরে দেখা যাবে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে প্যারোলের আবেদনের সঙ্গে বিষয়টির মিল আছে কিনা, এটা খতিয়ে দেখা। তাদের আবেদন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য যৌক্তিক কিনা, এ বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে। যেহেতু খালেদা জিয়াকে আদালত দোষী ঘোষণা করেছে, কাজেই মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টটা আদালতের কাছেই যেতে হবে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সাংবাদিকদের করা অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অমানবিক কোনও কিছু সরকার করতে পারে না। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের মাথায় আছে। তবে একটা বিষয় হচ্ছে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টা তার দলের লোকেরা যেভাবে বলেন, চিকিৎসকরা কিন্তু সেভাবে বলছেন না। বিএনপির ক্ষমতাশীন দলের সাধারণ সম্পাদককে ফোন করা ও সরকারকে আন্দোলনের হুমকি বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা বিএনপির দ্বিচারিতা। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দফতর বদলের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী পরিষদের সব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী সরকারের মধ্যে কাজের সুবিধার জন্য সময়ে সময়ে মন্ত্রী সভায় রদবদল করতে পারেন, কারও দায়িত্বের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তারা কেউ তো বাদ যায়নি। শনিবার দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভা নিয়ে করা অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের সংসদীয় বোর্ড আছে, স্থানীয় সরকার বোর্ড আছে। দুটি বোর্ডেরই যৌথসভা হবে। আগামীকাল (শনিবার) ১৯ জনের যৌথসভা হবে। এই সভায় আমাদের কাছে কিছু রিপোর্ট আছে, নেত্রীর কাছে তার নিজস্ব ওয়েতে নেওয়া কিছু তথ্য আছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে, তাছাড়া সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার বোর্ড প্রত্যেক প্রার্থীকে নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করবেন। ভালোবাসা দিবসে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আসুন, নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করি। সংশয়, সন্দেহ, বিদ্বেষের দেয়াল ভেঙে সমঝোতার সেতু তৈরি করি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা চাই দেশের রাজনীতিতে সুন্দর কর্ম-সম্পর্ক পরিবেশ গড়ে উঠুক। বিদ্বেষ, আক্রশের রাজনীতির দেয়াল ভেঙে আমরা যেন কর্ম-সমঝোতার একটা সুন্দর সেতু নির্মাণ করতে পারি, দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক সুবাতাস বইয়ে দিতে পারি, সেটাই আজকে প্রত্যাশা। মন্ত্রিসভায় দফতর পুনর্বণ্টন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাজের সুবিধার্থে বা কাজের গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের দফতর রদবদল করতে পারেন। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল পদত্যাগ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করবেন কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।