ঢাকা   রবিবার ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  বন্যা ও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই জেলার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে- আবুল কালাম আজাদ (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে দুই বৎসর পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করল সিআইডি (জামালপুরের খবর)        জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি: নিম্নাঞ্চলে কমছে ধীর গতিতে (জামালপুরের খবর)        অবহেলিত ঘোড়াধাপের রাস্তা-ঘাট সংস্কার করলেন আনছার আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে এক শিশু নারায়গঞ্জ ফেরত এক ব্যক্তিসহ ৭ জনের করোনা শনাক্ত , আক্রান্ত ৬৪৯ (জামালপুরের খবর)        শেরপুরে ঐতিহাসিক কাটাখালি যুদ্ধ দিবসে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ (জেলার খবর)        শিগগিরই গ্রেফতার হবে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ: র‌্যাব (জাতীয়)        ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় সংসদে বিল পাস (জাতীয়)        করোনা নিয়ে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে: কাদের (জাতীয়)        আরও ৩৪৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৬ জনের (জাতীয়)      

একনেকে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ব্যয়ে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

Logo Missing
প্রকাশিত: 02:04:35 am, 2020-02-19 |  দেখা হয়েছে: 9 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বর্তমান সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২৯তম সভায় ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ১ লাখ টাকা খরচে ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ৮ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের সামনে তা তুলে ধরেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক (বেগমগঞ্জের গ্লোব ফ্যাক্টরি হতে কবিরহাটের ফলাহারী পর্যন্ত) (জেড-১৪৫৩) উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হবে ২৮২ কোটি ১১ লাখ টাকা। আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ মড়ককে চারলেনে উন্নীতকরণ (শিকলবাহা-আনোয়ারা সড়ক) প্রকল্পে ৪০৭ কোটি ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। আর ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা খরচে শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা ব্রিজ এপ্রোচ) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ হবে। অন্য প্রকল্পটি হলো ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা খরচে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প। ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা খরচে বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা খরচে হাওর অঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সভায় ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ খরচে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা খরচে রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থানসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক সভায় কেউ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্জ্য নিয়ে আমাদের সবার মাথাব্যথা এই মুহূর্তে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিন্তিত প্রধানমন্ত্রী। সরকারও চিন্তিত এটা নিয়ে। (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে) নানা ধরনের প্রস্তাব আসছে। একটা প্রস্তাব নিয়ে আজকে আলোচনা হচ্ছিল। একজন মন্ত্রী বর্জ্য নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চান। বিদেশি কোনো কোনো কোম্পানি আসতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আসুক। আমরা সহযোগিতা করব। যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এবং এটা আমাদের পরিবেশ ও চাহিদার সঙ্গে মিলেমিশে হয়, আমরা সহযোগিতা করব।

প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, শহরে আধুনিক কসাইখানা চাই। এখানে-সেখানে গরু জবাইয়ের স্বাভাবিক প্রবণতা আছে আমাদের। সেটা কমে আসা উচিত। শহরের জন্য আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা উচিত। কিছুকিছু কসাইখানা নির্মিত হয়েছে। কোথাও কোথাও আন্ডার ইউটিলাইজ (ব্যবহারাধীন) আছে। সেগুলো যেন যথাযথভাবে ব্যবহার হয়, সেগুলোর জন্যও বলেছেন তিনি। ব্রিজ নির্মাণ করলেও বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এ নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্রিজ যতই বানাই না কেন, ইমার্জেন্সি ঘাট যেন থাকে। কোনো কারণে ব্রিজের যদি ক্ষতি হয়, যাতে ইমার্জেন্সি ফেরি ব্যবহার করতে পারি। কথা হলো ওই জায়গা যেন ব্লক না হয়। রাতারাতি নৌকা এনে আমরা যেন পারাপারের ব্যবস্থা করতে পারি। এছাড়া দেশের সব বন্দর, স্টেশনসহ যেসব জায়গায় স্ক্যানার মেশিনের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব স্থানে স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সব বন্দর ও স্টেশনে স্ক্যানার মেশিন স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যেখানে পণ্য খালাস হয় সেখানেই স্ক্যানার মেশিন বসাতে হবে। পরিবেশ উন্নয়নে ঢাকা শহরে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরামর্শ দিয়েছেন সড়কের দু’পাশে গাছ লাগানোর।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।