ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে সামজিক দূরত্ব নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ (জামালপুরের খবর)        করোনা পরিস্থিতিতে আরও বাড়তে পারে ছুটি (জাতীয়)        জামালপুরে করোনা রোগী তল্লাশির নামে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুর জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ (জামালপুরের খবর)        রিকশা-ভ্যানচালকদের মাঝে ত্রান পৌছে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন (জামালপুরের খবর)        জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে জীবাণু নাশক ঔষধ প্রয়োগ (জামালপুরের খবর)        শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জ্বর শ্বাসকষ্টে ১ জনের মৃত্যু : ১০ বাড়ি লকডাউন (জেলার খবর)        জামালপুরে আ’লীগ নেতা উজ্জলের উদ্যোগে দরিদ্রদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুর সনাকের নতুন সভাপতি অজয় কুমার পাল (জামালপুরের খবর)        ডিসিদের ভিডিও কনফারেন্সে নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী (জাতীয়)      

খালেদাকে নিয়ে বারবার প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় নেই: ওবায়দুল কাদের

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:13:37 pm, 2020-02-19 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আ.জা.ডেক্সঃ

দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগের করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। অনেক কাজ রয়েছে। দেশের কাজ, দলের কাজ। একজন খালেদা জিয়াকে নিয়ে বারবার প্রশ্নের জবাব দেবো সেই সময় আমাদের নেই। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের ঢাকা বিভাগের অধীন সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ সভা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি আদালতে আছেন। আদালতই সব ঠিক করবেন। এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা দুর্নীতির মামলা। আদালত যেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেবেন। এটা আওয়ামী লীগের হাতে, শেখ হাসিনার হাতে বা আমাদের কারও এখতিয়ারে নেই। কাজেই বারবার প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না। আমি বারবার এ প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না। করোনাভাইরাসে দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়ছে কি না এবং এ বিষয়ে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি যদি কোনো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোনো কারণে মন্দা দেখা দেয়; তার প্রভাব সারা বিশ্বেই থাকে। করোনাভাইরাস আমাদের অর্থনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সে অবস্থা এখনো আসেনি। এটা যদি বেশি দিন থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে হলে পদ্মা সেতুর কাজে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে আড়াইশ চীনের কর্মী, শ্রমিক স্বদেশে ছুটিতে গেছেন নববর্ষে। তারা এখনো আসেননি। করোনাভাইরাসের যে প্রতিক্রিয়া, এরপরও তিনটি স্প্যান আমাদের বসে গেছে। আগামীকালও (আজ বৃহস্পতিবার) একটি স্প্যান বসার কথা। যারা ছুটির কারণে চীনে আছেন আগামী আড়াই মাসের মধ্যে তারা ফিরে না এলে একটু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী দুই মাসের কাজের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা মোট ২৯টি সম্মেলন করেছি। এর মধ্যে দুটি ঢাকা সিটির। কিন্তু ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত কোনো সম্মেলন হয়নি। শেখ হাসিনার বড় নির্দেশনা হচ্ছে দলকে সাজাতে হবে। সাংগঠনিকভাবে সৃশৃঙ্খল এবং সংগঠনকে সময়ের চাহিদা মেটানো আমাদের অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না। অনেক জায়গায় দেখা যায়, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে আছে। ৮-১০ বছর হয়ে গেছে আর কেউ নেই। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আবার অনেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিচ্ছে অনুমোদন পেতে পেতে ছয় মাস। সম্মেলন করতে বললে বলেন, আমাদের তো মেয়াদ শেষ হয়নি। সম্মেলন যেদিন থেকে হবে ক্ষণ গণনা সেদিন থেকে হবে। কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে শিক্ষা নেন। তিনি বলেন, কমিটি করতে গিয়ে নিজের লোক পকেটে ঢুকাবেন না। এতে দলের কোনো লাভ হবে না। দল ভারী করার জন্য আজকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের আনবেন না। এপ্রিল থেকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা ঢেলে সাজাবেন। এরপর জেলাগুলোর সম্মেলন হবে। ঘরে বসে কমিটি করবেন না- এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এতে দল শেষ হয়ে যাবে। সম্মেলন ছাড়া কোনো কমিটি করা যাবে না। অনেক সময় জেলার নেতারা উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। এটা হবে না। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। কমিটি ভাঙতে হলে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবেন। নেত্রী পর্যন্ত বিষয়টি গড়াবে। সেখানেই ফাইনাল সিদ্ধান্ত হবে যে, এ কমিটি ভাঙার জন্য আপনার সুপারিশ যথাযথ কি না? কোনো কারণে আপনার সাথে বনিবনা হলো না যে কাউকে বহিষ্কার করে দিলেন। এভাবে বহিষ্কার করা যাবে না। কমিটি নিয়ে বসতে হবে। কমিটির কাছে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু সরাসরি বহিষ্কার করতে পারবেন না। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন সুসময়, কিন্তু দুঃসময় আসবে না; এটা কখনও ভাববেন না। কেউ কারও থাকবে না। আজকে নিজের মনে করে একজনকে নেতা বানাচ্ছেন। আপনার যখন খারাপ সময় আসবে আপনাকে সালামও দেবে না। কাজেই এসব নেতা বানিয়ে লাভ নেই। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিরোধী দল প্রচার করছে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কিন্তু ইভিএমে কারচুপি বা জালিয়াতির কোনও সুযোগ ছিল না। যদি এরকম সুযোগ থাকতো তাহলে নির্বাচনে ভোটের পার্সেন্টিজ বেশি হতো বা অস্থিতিশীলতা হতো। যদি কোনও প্রকার কারচুপি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হতো তাহলে এই নির্বাচনের অবস্থা ভিন্নতর হতে পারতো। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে কাদের বলেন, জনমনে যে সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা এখন অনেকে বুঝতে পারছেন। সিটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমের জন্য যে সমস্যাগুলো ছিল তার মধ্যে ছিল পরিবহন সংকট, তিন দিনের মতো ছুটি, অনেকের ছেলেমেয়ের এসএসসি পরীক্ষা থাকায় সেই সময় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষার আগের সময়টা গ্রামের বাড়িতে কাটিয়েছেন। সব কিছুর কারণ আছে। এরপরও নির্বাচন নিয়ে সারা দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছিল। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র, পর্যবেক্ষক মহলে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তারা পারেনি। তিনি বলেন, সামনে আমাদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ঢাকা মহানগরেও একটা নির্বাচন আছে। ঢাকা-১০ আসন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য সর্বাত্মক কাজের চেষ্টা করতে হবে। এ নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, আবদুর রহমান, মো. শাহজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মোহাম্মদ মন্নাফি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।