ঢাকা   রবিবার ০৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে ৬শ অসহায় পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই: আশরাফুল ইসলাম বুলবুল (জামালপুরের খবর)        করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের সমস্যা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন-মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        গন্তব্যে পৌছবে কি ছানুর নৌকা (জামালপুরের খবর)        বেতন ও বোনাসের টাকায় ঈদ সামগ্রী নিয়ে দেড়শ মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কিরন আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে তরুনদের সহায়তায় দুইশত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ময়মনসিংহে ৩শ দরিদ্র পরিবারের মাঝে সেনা প্রধানের ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন আর্টডক সদস্যরা (ময়মনসিংহ)        করোনা যোদ্ধা নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী দাস শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন (ময়মনসিংহ)        বিদ্যানদীর মত সকল সামাজিক সংগঠন যদি এই দুর্যোগের সময়ে এগিয়ে আসে তবে সরকারের উপর চাপ অনেকংশে কমে যাবে -মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)      

হত্যা নয়, আত্মহত্যাই করেছেন সালমান শাহ: পিবিআই

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:36:21 am, 2020-02-25 |  দেখা হয়েছে: 5 বার।

আ.জা. ডেক্স:

তৃতীয় দফা তদন্তেও চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি; দুই যুগ আগে তুমুল জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র তারকা আত্মহত্যাই করেছিলেন জানিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল সোমবার ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যুরোর মহাপরিচালক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরার কারণে মাকে ছেড়ে দূরে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে তাদের মনে হয়েছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তার মধ্যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের বাসা থেকে সালমান শাহর (চৌধুরী মো. ইমন) লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা ধরে সে সময় অপমৃত্যু মামলা হলে তাতে আপত্তি জানায় তার পরিবার। ১৯৯৭ সালে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা এবং ২০১৪ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্তে অপমৃত্যু বলা হয়। সালমানের মা নীলা চৌধুরী সেসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলে তদন্তভার আসে পিবিআইয়ের হাতে। বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর সালমানের তখনকার স্ত্রী সামিরাসহ ৪৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের ভিত্তিতে পিবিআই ৬০০ পৃষ্ঠার ডকেট তৈরি করেছে। এই তদন্ত প্রতিবেদন মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া হবে। আগের দুই দফা ময়নাতদন্তে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে, তদন্তকালে সবার সাক্ষ্য বিবেচনা করে পিবিআই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

আত্মহত্যার পেছনে ৫ কারণ: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের ৯০ দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর আত্মহত্যার পেছনে পাঁচটি কারণ রয়েছে বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছেন বলে দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। আর এর পেছনে রয়েছে পাঁচটি কারণ। এগুলো হলো:
১. সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা।
২. স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ।
৩. সালমান শাহর মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা এবং একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়া বা আত্মহত্যার চেষ্টা করা।
৪. মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জিভ‚ত অভিমানে রূপ নেওয়া।
৫. সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনের অপূর্ণতা।

ব্রিফিংয়ে সালমান হত্যায় ঘুরে ফিরে নায়িকা শাবনূরের প্রসঙ্গ আসে। সালমানের স্ত্রী সামিরার উদ্ধৃতি দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আর সালমান তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। সেসব নিয়েই স্ত্রী সামিরার সঙ্গে ঝামেলা তৈরি হয়েছিলো। ব্রিফিং এ জানানো হয়, সালমানের আত্মহত্যার আগেরদিন তার ডাবিং দেখতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন সামিরা। ডাবিং রুমে শাবনূর ও সালমানকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেন তিনি। এতে সামিরা রাগ করে বের হয়ে যান। ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, সামিরা শুটিংর ফ্লোর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সালমান ও বাদল খন্দকার বাসায় চলে আসেন। বেশ কয়েক বার শাবনূর সালমানের বাসায় ফোন করেন শাবনূর। সালমান শাবনূরকে বলেন, তুমি আর কখনও আমাকে ফোন করবে না। এছাড়া সালমানের বাসায় প্রাই নাকি আসতেন শাবনূর। আত্মহত্যার আগে সালমান শাবনূরের উপহার দেয়া টেবিল ফ্যান ভেঙে ফেলেন সালমান। সালমানকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছে পিবিআই। এছাড়া সালমান শাহর মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া সুইসাইড নোটটি তার নিজের হাতে লেখা, বলছে পিবিআই।

ডিআইজি বনজ বলেন, পুলিশ বিভাগে সুনীল কুমার মুখার্জি হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট হিসেবে সুপরিচিত। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি রিপোর্ট দিয়েছেন সুইসাইড নোটটি সালমান শাহর লেখা। সালমান শাহর স্বাক্ষর ও বিভিন্ন সময়ে তার হাতের লেখাগুলো অতি সূক্ষ ভাবে যাচাই বাছাই করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন, সুইসাইড নোটটি সালমান শাহ মৃত্যুর আগে নিজে লিখে গিয়েছেন। এ থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায় যে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন, জানান ডিআইজি বনজ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। এতে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকান্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। গত ৩ নভেম্বর ১৯৯৭ সালে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে এটি গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি সে তদন্তে ছিল। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর এ চিত্রনায়কের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। সে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকান্ডে জড়িত থাকতে পারেন। মামলাটি এরপর র‌্যাব তদন্ত করে। তবে তাদের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে আছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপরও নানা কারণে দফা দফায় প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ পেছানো হয়। যা সর্বশেষ গতকাল সোমবার প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট সামিরার বাবা: সালমান শাহর মৃত্যু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছেন নায়কের শ্বশুর, সামিরার বাবা শফিকুল হক হীরা। সাবেক এ ক্রিকেটার দাবি করেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের অভিযোগের অবসান হলো। এ প্রতিবেদনে সন্তোষটি প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সালমানের মৃত্যুর ক্ষোভ পড়েছে সামিরা ও তার পরিবারের ওপর। পিবিআইর এ তদন্তের মাধ্যমে সে অভিযোগের অবসান হলো।