ঢাকা   ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে সাংবাদিক ও পুলিশকে পিপিই দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী (জামালপুরের খবর)        সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে র‌্যাবের কঠোর হুঁশিয়ারি (জামালপুরের খবর)        জামালপুর পৌরসভায় ব্যক্তিগত অর্থে ৫ হাজার ২শ ৯০টি পরিবারকে ত্রাণ দিলেন ছানোয়ার হোসেন ছানু (জামালপুরের খবর)        শাহবাজপুরে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ঝিনাইগাতীতে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সংকট (জেলার খবর)        শেরপুরে ত্রাণ চাইতে গিয়ে পৌর কাউন্সিলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকারের অভিযোগ! (জেলার খবর)        শেরপুরে কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে বাজুসের খাদ্য সহায়তা প্রদান (জেলার খবর)        চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবীমার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত (জাতীয়)        বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)      

সঠিক তদারকির অভাবে নড়বড়ে অবস্থায় পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ে

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:29:24 am, 2020-03-07 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

আ.জা. ডেক্স:

সপ্তাহে দুদিন সরেজমিনে ঘুরে রেলওয়ে ট্র্যাকের প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে প্রকৌশলীদের। কিন্তু পরিদর্শনের সেই নিয়ম পালন হচ্ছে কাগজে-কলমে। আর তড়িঘড়ি করেই শেষ করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুমেরামতসহ প্রায় সকল ধরণের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নড়বড়ে রেলট্র্যাক (লাইন) ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে হরহামেশায় ঘটছে লাইনচ্যুতির ঘটনা। মূলত তদারকির অভাবেই চরম বেহাল দশা পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের। আর একই কারণে ট্রেন চলাচলে আসছে না গতি। এ রুটে প্রায় লাইনচ্যুতিসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটলেও ট্র্যাক মেরামতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ারও অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সরেজমিন এ রেল রুটের হরিয়ান স্টেশনের কাছে গিয়ে দেখা যায়, লাইনের ভগ্নদশা। সেখানে সমান্তরাল তিনটি লাইনের মধ্যে তিন নম্বর লাইনটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়া সত্তে¡ও তা ব্যবহার হচ্ছে। এর আগে গত বছরের ১১ মার্চ রাতে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীমুখী মধুমতি এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে হরিয়ান স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয়েছিল। অথচ দুর্ঘটনার দিন সেই লাইন দিয়েই চালানো হয় ট্রেনটি। সেই ট্র্যাকে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন কাঠের স্লিপারগুলোকে সারিবদ্ধ করে ধরে রাখতে ৫৪ নম্বর রেলব্রিজের ওপর স্লিপারগুলোতে প্রযুক্তিগত পদ্ধতির বাইরে বাঁশের বাতা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ৬৮০ মিটার সংস্কারাধীন দুই নম্বর লাইনটির মেরামত কাজ শেষ না হতেই তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করা হয়।

পবার হরিয়ান স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার লাইনের দুইধারেই বিরাট গর্ত রয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়ায় রেললাইনগুলো গড়ে উঠেছে। স্টেশনের তিনটি রেল লাইনের মধ্যে ২ নম্বর লাইনে মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তবে সংস্কার করা লাইনটিতে এখনো পাথর বসানো হয়নি। কংক্রিট স্লিপারের সঙ্গে লাইনের সংযোগ ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ক্লিপ বসানো হয়নি। এক ও তিন নম্বর লাইনের পাত ঘেঁষে বিভিন্নস্থানে ফেলে রাখা হয়েছে পাথর ও মাটির স্তূপ। তিন নম্বর লাইনের পুরোটা জুড়ে গজিয়েছে ঘাস। অযতœ ও অবহেলায় লাইনটির এখন বেহাল দশা। তার উপর দিয়েই চলছে আন্তঃনগরসহ মালবাহী ট্রেন।

এরপর গত ১০ জুলাই রাজশাহীর চারঘাটের দীঘলকান্দিতে তেলবাহী ট্রেনের আটটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় ২৮ ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আবদুর রশিদ নামে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের একজন সহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। যে ধকল সামলাতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সিডিউল বিপর্যয় চলে পশ্চিমাঞ্চল রেলে। আর ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর পর্যন্ত থাকা সিঙ্গেল লাইন, সিগন্যাল ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলছে বলে মনে করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, পূর্ব রেলের আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যার প্রেক্ষিতে রাজশাহী-ঢাকা রুটসহ পশ্চিমাঞ্চলের রুটগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ব্যবস্থা নেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু আবারও একই রুপে ফিরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর। জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে দেড় হাজার কিলোমিটার পথে ১ হাজার ৩৬৭টি সেতু রয়েছে। তবে এগুলো বেশিরভাগই ব্রিটিশ আমলের তৈরি। এরপর থেকে কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়েই সেতুগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বছর বছরে এসব মেরামত করা হয়েছে বলেও খাতা কলমে উঠেছে। কিন্তু সেতুগুলো এখনও বেহাল এবং ঝুঁকিপূর্ণরুপ থেকে বেরুতে পারছে না। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সপ্তাহে অন্তত দুইদিন লাইন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। তবে এ নিয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, লোকবল সংকটে ভুগছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। যে কারণে নিয়ম বা ইচ্ছে থাকলেও সব সময় তা মানা সম্ভব হয়ে উঠেছে না। তবে এরপরও তাদের তদারকি কাজ প্রায় ঠিকঠাকই চলছে।

এদিকে, পাবনার পাকশীতে পদ্মানদীর ওপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু হার্ডিঞ্জ ব্রিজটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৫ সালে। ফলে বিষয়টি এখন ভাবিয়ে তুলেছে কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থাকেও বর্তমানে হুমকির মুখে ফেলেছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. আসাদুল হক বলেন, প্রতি সপ্তাহে দুইবার করে একজন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে রেলওয়ে লাইন পরিদর্শন করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই এখন বাড়তি সতর্ক অবলম্বন করা হয়েছে। আর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদার জানান, পাবনার ঈশ্বরদী থেকে জয়দেবপুর স্টেশন পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইনটি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেকশন। এই সেকশনটা সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ। তবে শিগগিরই ডাবল লাইন ও ডুয়েলগেজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সেকশনটিতে ডুয়েল লাইন ডুয়েল গেজ হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ট্রেন চলাচলে আশানুরূপ পরিবর্তন আসবে। আর এটি বাস্তবায়ন হলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রুটগুলোতে বিরতিহীন ট্রেন চলাচলসহ অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলের জন্য মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে বলে আশা করছি। সুশীল কুমার আরো বলেন, লাইনের কারণে সময় বেশি লাগলেও স্টেশন মাস্টার ও চালকদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। আর কোনো ধরণের ক্রুটি ধরা পড়লে তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোরও নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।