ঢাকা   ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে সাংবাদিক ও পুলিশকে পিপিই দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী (জামালপুরের খবর)        সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে র‌্যাবের কঠোর হুঁশিয়ারি (জামালপুরের খবর)        জামালপুর পৌরসভায় ব্যক্তিগত অর্থে ৫ হাজার ২শ ৯০টি পরিবারকে ত্রাণ দিলেন ছানোয়ার হোসেন ছানু (জামালপুরের খবর)        শাহবাজপুরে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ঝিনাইগাতীতে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সংকট (জেলার খবর)        শেরপুরে ত্রাণ চাইতে গিয়ে পৌর কাউন্সিলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকারের অভিযোগ! (জেলার খবর)        শেরপুরে কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে বাজুসের খাদ্য সহায়তা প্রদান (জেলার খবর)        চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবীমার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত (জাতীয়)        বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)      

অদক্ষতা ও অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে কর আদায়ে পিছিয়ে থাকছে ডিএসসিসি

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:10:23 am, 2020-03-08 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আ.জা. ডেক্স:

বাজার সেলামি এবং গৃহকর সিটি কর্পোরেশনের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত। ওই আয় দিয়েই সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব ব্যয় মেটায়। কিন্তু অদক্ষতা এবং অসাধু কিছু কর্মকর্তার কারণে রাজস্ব আয়ে পিছিয়ে থাকছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রতি বছর সংস্থাটির কোটি কোটি টাকা বাজেট ধরা হলেও রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। আর এ ধারা অব্যাহত থাকলে ডিসিসিসি আর্থিকভাবে কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে। ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত পাঁচ বছরের বাজেটের মধ্যে কিছু বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও বাজার সালামি ও গৃহকরের অর্থ আদায় করতে পারেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজার সালামি খাতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছিল ৩০৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৬১ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে গৃহকর খাতে ধরা হয় ৩৩০ কোটি টাকা। আর আদায় হয়েছে ২১১ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার সালামিতে ৩১৩ কোটি টাকা আয় ধরা হলেও আদায় হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। আর গৃহকর ৫১৫ কোটি টাকা ধরা হলেও আদায় হয়েছে মাত্র ১৮০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে বাজার সালামি খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৬৫০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১০৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে গৃহকর খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা, আর আদায় হয়েছে ১৯৫ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা, আদায় হয় মাত্র ১৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে গৃহকর খাতে আয় ধরা হয়েছিল ২৮৫ কোটি টাকা, আদায় হয় মাত্র ১৮০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে আয় ধরা হয়েছিল ১০০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ৫৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে গৃহকর আয় ধরা হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকা মাত্র। ২০১৯-২০ চলতি অর্থবছরেও বাজার সালামি থেকে ধরা হয়ে হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। আর এ খাতে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ৩০ কোটি টাকা। এ বছর গৃহকর খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ১৪৫ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ডিএসসিসির রাজস্ব খাতে শুধু লোকদেখানো বাজেট দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। কিন্তু ডিএসসিসির কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় হয়নি। এভাবেই বছরের পর বছর টাকা ঠিকমতো আদায় না হলেও সংস্থাটি কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদটি মূলত সরকারের উপ-সচিব পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু ওই পদে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে ডিএসসিসি তার কাক্সিক্ষত রাজস্ব পাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তা পদে জনপ্রশাসন থেকে প্রেষণে কর্মকর্তা দেয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নিয়মবর্হিভূত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই ওই পদে রয়েছেন।

সূত্র আরো জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভুয়া চালান তৈরি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি ওয়ার্ডে গৃহকরের ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬১ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। ওই অভিযোগে ইতিমধ্যে সংস্থাটির সাময়িক বরখাস্ত এক রেভিনিউ সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. ইউসুফ আলী সরদার রাজস্ব কর্মকর্তাদের অসৎ উপায়ের কথা স্বীকার করে জানান, অবৈধভাবে অনেকে অনিয়মের আশ্রয় নেয়। তাছাড়া বিভিন্ন সমস্যার কারণেও কাক্সিক্ষত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বাজার সালামি আদায়ে সমস্যা বেশি হয়। এর কারণ যে পরিমাণ মার্কেট তৈরি করার টার্গেট নেয়া হয়, সে অনুযায়ী মার্কেট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। ওই কারণে যে পরিমাণ এই খাতে টার্গেট নেয়া হয় তার এক ভাগও পূরণ হয় না। তাছাড়া আদালতে গৃহকর নিয়ে কিছু মামলা থাকার কারণে অনেক জায়গা থেকে কর আদায়েও অসুবিধা হয়।