ঢাকা   রবিবার ০৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে ৬শ অসহায় পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই: আশরাফুল ইসলাম বুলবুল (জামালপুরের খবর)        করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের সমস্যা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন-মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        গন্তব্যে পৌছবে কি ছানুর নৌকা (জামালপুরের খবর)        বেতন ও বোনাসের টাকায় ঈদ সামগ্রী নিয়ে দেড়শ মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কিরন আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে তরুনদের সহায়তায় দুইশত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ময়মনসিংহে ৩শ দরিদ্র পরিবারের মাঝে সেনা প্রধানের ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন আর্টডক সদস্যরা (ময়মনসিংহ)        করোনা যোদ্ধা নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী দাস শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন (ময়মনসিংহ)        বিদ্যানদীর মত সকল সামাজিক সংগঠন যদি এই দুর্যোগের সময়ে এগিয়ে আসে তবে সরকারের উপর চাপ অনেকংশে কমে যাবে -মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)      

শিশু সায়মা ধর্ষণ-হত্যার একমাত্র আসামি হারুনের মৃত্যুদন্ড

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:15:49 am, 2020-03-10 |  দেখা হয়েছে: 3 বার।

আ.জা. ডেক্স:

রাজধানীর ওয়ারীতে ছয় বছরের শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় একমাত্র আসামি হারুন অর রশিদের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার এক নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী আবদুল হান্নান গতকাল সোমবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর বিবি ফাতেমা বলেন, রায় শুনে দন্ডিতের মধ্যে তেমন কোনো বিকার দেখা যায়নি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক কাজী আবদুল হান্নান বলেন, ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে নিষ্পাপ শিশু সায়মা আসামি হারুন কর্তৃক সর্বোচ্চ বর্বরতার শিকার হয়েছে। যার জন্য মানুষ হিসেবে আমরা সবাই লজ্জিত। তাই আসামি হারুন আদালতের কোনো প্রকার অনুকম্পা পেতে পারে না। তাকে সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করাই যুক্তিসঙ্গত। তিনি বলেন, আসামি হারুনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(২) ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হলো।

এদিকে রায়ে মামলার একমাত্র আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সায়মার মা সানজিদা আক্তার ও বাবা আবদুস সালাম। তারা এই রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান সরকারের কাছে। শিশু সায়মার মা সানজিদা আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে হত্যায় হারুনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়ায় আমি সন্তুষ্ট। সরকার যেন এ রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করেন। রায়ের পর সায়মার বাবা ব্যবসায়ী আবদুস সালাম আসামির সর্বোচ্চ সাজার আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাড়াতাড়ি এই রায় কাযর্কর দেখতে চাই। এই রায়ের মাধ্যমে দুবৃর্ত্ত ধষর্করা যেন জেনে যায়, এ রকম জঘন্য কাজ করলে কেউ পার পায় না।

অন্যদিকে আসামির আইনজীবী মো. আনোয়ার উল্যাহ বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ বা চাক্ষুস সাক্ষী ছিল না। ২০১৯ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওয়ারীর বনগ্রামের খালি ফ্ল্যাটের নবম তলায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার গলায় রশি প্যাঁচানো, মুখ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন সায়মার বাবা সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার একমাত্র আসামি হারুন অর রশিদকে ওই বছর ৭ জুলাই কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকায় তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন হারুন। তদন্ত শেষে গতবছর ৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে বলা হয়, রঙের দোকানের কর্মচারী হারুন ধর্ষণের পর শিশুটির গলায় শক্ত পাটের রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ওয়ারিতে যে ভবনে সায়মা তার বাবা-মার সঙ্গে থাকত, ওই ভবনের আরেকটি ফ্ল্যাটে অতিথি হয়ে এসেছিলেন হারুন। তার খালাত ভাই পারভেজের বাসায় প্রায় দুমাস ধরে থাকছিলেন তিনি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গতবছরের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় পারভেজের ছোট ছেলের সঙ্গে খেলতে ওই বাসায় গিয়েছিল সায়মা। তখন হারুন ছাঁদ দেখানোর কথা বলে তাকে ভবনের নবম তলার একটি খালি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। চলতি বছর ২ জানুয়ারি আসামি হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৮ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। প্রথমদিন সাক্ষ্য দেন সায়মার বাবা। গত ১৯ ফেব্রæয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওয়ারী জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ আরজুনের বক্তব্য গ্রহণের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি একমাত্র আসামি হারুন অর রশিদ আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। ৫ মার্চ যুক্তিতকের্র শুনানি শেষে রায়ের তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মো. আবদুল বারী এবং আসামিপক্ষে মো. আনোয়ারউল্লাহ প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে যুক্তিতর্কের শুনানি করেন।