ঢাকা   ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে সাংবাদিক ও পুলিশকে পিপিই দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী (জামালপুরের খবর)        সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে র‌্যাবের কঠোর হুঁশিয়ারি (জামালপুরের খবর)        জামালপুর পৌরসভায় ব্যক্তিগত অর্থে ৫ হাজার ২শ ৯০টি পরিবারকে ত্রাণ দিলেন ছানোয়ার হোসেন ছানু (জামালপুরের খবর)        শাহবাজপুরে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ঝিনাইগাতীতে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সংকট (জেলার খবর)        শেরপুরে ত্রাণ চাইতে গিয়ে পৌর কাউন্সিলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকারের অভিযোগ! (জেলার খবর)        শেরপুরে কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে বাজুসের খাদ্য সহায়তা প্রদান (জেলার খবর)        চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবীমার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত (জাতীয়)        বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)      

সরকার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি গোপনের চেষ্টা করছিল: ফখরুল

Logo Missing
প্রকাশিত: 01:32:59 am, 2020-03-10 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

আ.জা. ডেক্স:

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি সরকার গোপন করার চেষ্টা করছিল অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যখন বিদেশি অতিথিরা আসতে অপারগতা প্রকাশ করলেন তখনই এ তিনজনের নাম আসলো। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রগতি ও সত্যের সন্ধ্যানে ও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের খন্ডচিত্র নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার করোনাভাইরাস নিয়ে এতদিন কিছু বলেনি। তারা খুঁজে পায়নি। কী কারণে পায়নি তা জানি না। তবে হঠাৎ করে গত রোববার খুঁজে পেয়েছেন। যখন বিদেশি অতিথিরা দেশে আসতে অপারগতা প্রকাশ করলেন তখনই এই তিনজনের নাম এলো। আমার ধারণা তারা বিষয়টাকে পুরোপুরি গোপন করার চেষ্টা করেছেন। এ ব্যাধিটি দেশে অনেক আগেই এসেছে বলে অনেকের ধারণা। এ ধারণা সত্যিকার অর্থে এখন প্রকাশিত হচ্ছে, যোগ করেন ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করি এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবিলম্বে সব বন্দরে যথেষ্টসংখ্যক থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালও নির্ধারিত করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কী ধরনের অশালীন কথাবার্তা। স্বয়ং একজন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪০০ টাকার মেজর তার একদিনের একটা বাঁশির ফুয়ে স্বাধীনতা আসেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, একজন মেজরের বাঁশির সুরে সমগ্র জাতি স্বাধীনতার জন্য এগিয়ে আসে। আপনার তখন কেউ পলায়ন করেছিলেন, কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, অন্যকে অপমান করার মধ্য দিয়ে মহত্ত্ব গড়ে উঠে না। স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অবদান আছে তাদেরকে স্বীকার করে নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি দুর্ভাগ্যক্রমে তারা অন্য কাউকে স্বীকার করতে চায় না। না স্বীকার করতে চান, তাজউদ্দিন আহমেদকে, জেনারেল ওসমানীকে, না শহীদ জিয়াউর রহমানকে। অন্যান্যের কথা বাদই দিলাম।

তিনি বলেন, আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। কেন কারাগারে আছেন? সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। অন্যদিকে, যে ধরনের মামলায় তিনি আটক আছেন, সেই ধরণের মামলায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মুক্ত আছেন, জামিন পেয়েছেন। আমার কথা হচ্ছে, বিচার বিভাগ একই ধরনের মামলায় যখন অন্যান্যের জামিন দেয় অন্যান্যের মুক্তি দেন, তখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন না কেন? এটাই হচ্ছে অবক্ষয়। পিরোজপুরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিরোজপুরে এক মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপিকে দুদকের একটি মামলায় প্রথমে বিচারক কারাগারে নিতে বললেন। তারপর চাপ দিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি নেওয়া হলো। পরবর্তীতে সেই দিনই মামলা অন্য কোর্টে নিয়ে অধস্তন বিচারকের মাধ্যমে জামিন দেওয়া হলো। ওই বিচারককে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে দেওয়া হলো। কোথায় বিচার বিভাগ। কোথায় আমরা যে বলি সকলের কাছে বিচার সমান, সে বিচার কোথায়?

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র যদি না থাকে, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে কোনো কিছু গড়ে ওঠে না। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই স্বপ্ন সম্পূর্ণভাবে চুরমার হয়ে গেছে, ধ্বংস হয়ে গেছে। দেখুন কী ধরনের অশোভন কথাবার্তা। যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, একজন ৪০০ টাকার মেজর, একদিনের বাঁশি ফুঁয়ে স্বাধীনতা আসেনি। দুর্ভাগ্য হচ্ছে এই মেজরের বাঁশির ফুতেই সমগ্র জাঁতি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। আপনারা তো কেউ পলায়নপর ছিলেন, কেউ আত্মসমর্পণ করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অবদান আছে, তাদের প্রত্যেকটি মানুষকে স্বীকার করে নেওয়া উচিত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু আমরা দেখেছি দুর্ভাগ্যক্রমে তারা অন্য কাউকে স্বীকার করতে চায় না। না জেনারেল ওসমানী না জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ড. মোশাররফ হোসেনের লেখার মধ্যে আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে অত্যন্ত সহজভাবে প্রাঞ্জল ভাসায় সত্য উচ্চারণ। প্রকাশকের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকাশক এখানে বলেছেন, তিনি ড. মোশাররফের বই প্রকাশ করতে গিয়ে গর্বিত বোধ করেছেন। এজন্য যে সত্য কথাগুলো নিয়ে আসতে পেরেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বই দুটি পড়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যঅধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সাবেক উপাচার্যপ্রফেসর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর ড. মুসতাহিদুর রহমান, ডেইলি ফিন্যান্সিয়াল হেরাল্ড-এর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।