ঢাকা   ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে সাংবাদিক ও পুলিশকে পিপিই দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী (জামালপুরের খবর)        সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে র‌্যাবের কঠোর হুঁশিয়ারি (জামালপুরের খবর)        জামালপুর পৌরসভায় ব্যক্তিগত অর্থে ৫ হাজার ২শ ৯০টি পরিবারকে ত্রাণ দিলেন ছানোয়ার হোসেন ছানু (জামালপুরের খবর)        শাহবাজপুরে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ঝিনাইগাতীতে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সংকট (জেলার খবর)        শেরপুরে ত্রাণ চাইতে গিয়ে পৌর কাউন্সিলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকারের অভিযোগ! (জেলার খবর)        শেরপুরে কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে বাজুসের খাদ্য সহায়তা প্রদান (জেলার খবর)        চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবীমার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর (জাতীয়)        সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে ঈদ পর্যন্ত (জাতীয়)        বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (জাতীয়)      

বঙ্গবন্ধুর শিষ্য মোকাদ্দেছ আলীর আজ স্মৃতিচিহ্ন টুকু নেই

Logo Missing
প্রকাশিত: 03:00:00 pm, 2020-03-15 |  দেখা হয়েছে: 17 বার।

মোহাম্মদ আলী:

এড. আব্দুল হাকিমের নামে স্টেডিয়াম আছে, এড. সোবহানের নামে সড়ক। মতিয়র রহমানের নামে রেল স্টেশন রয়েছে, সৈয়দ আলী মন্ডলের নামে কমিউনিটি সেন্টার। আরও অনেকের নামে অনেক কিছু। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক শিষ্য, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও তাঁর চাচা লুৎফর রহমানের বন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, একাধিক প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক গুরু, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী, সুশীল সভ্য রাজনীতিক, জামালপুর মহাকুমা আওয়ামী লীগের দুইবারের সাধারণ সম্পাদক, মোকাদ্দেছ আলীর নামে আজ স্মৃতিচিহ্ন টুকু নেই!

শনিবার, মুজিবর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ও পিতার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিমানের সুরে আক্ষেপ প্রকাশ করে উপরের কথাগুলো বলেছেন, মরহুম মোকাদ্দেছ আলীর জ্যোষ্ঠ পুত্র, এম.এ. কামাল শাহীন।

৯৯ সালের জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে মরহুম মোকাদ্দেছ আলীর জীবদ্দশায় লিখিত একটি অপ্রকাশিত চিঠিসূত্রে জানা যায়, ১৯৪৯ সালের ২৩জুন যখন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও তাঁর চাচা লুৎফর রহমান ছিলেন তার সহপাঠি ও বন্ধু। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে হামিদুল হক এর অবজারভার প্রত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে পার্টটাইম চাকুরী করতেন। পত্রিকায় কাজ করার সুবাধে তৎকালিণ রাজনীতিক নেতাদের সম্পর্কে চেনা জানার সুযোগ হয় তার। থাকতেন ১৭নং কারকুনা বাড়ী লেনের ইয়ার মোহাম্মদ বাড়ীতে। এই বাড়ীতেই থাকতেন মজলুম নেতা মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। একই বাসায় থাকার ফলে মাঝে মধ্যেই ভাসানীর সেবা করা বা সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার। আর ভাসানীর সূত্রধরে শেখ মুজিবুরের সংষ্পর্শে। এভাবেই তখন এই ক্ষণজন্মা নেতারদের কাছ থেকে সরাসরি রাজনৈতিক দীক্ষা সৌভাগ্য হয়েছিল তার। ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হন তিনি। ১৯৫৩ সালে তিনি পুস্তব ব্যবসার মাধ্যমে জামালপুরে চলে আসেন। তারপর নিজেকে যুক্ত করে ফেলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে।

এভাবেই ৫৪র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৫৮র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬৬র ৬দফা, ৬৯র গণঅভুত্থান ৭০র সাধারণ নির্বাচন ও ৭১ মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ অবদান রাখেন তিনি। ৫৪ থেকে ৭৫ দুইবার মহকুমা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু যতবার জামালপুরে এসেছেন তিনি থেকেছেন সামনের সারিতে। আন্দোলন সংগ্রামেও কখনও পিছ পা হননি।

তখনকার আওয়ামী লীগের রাজনীতি এমন সোনায় সোহাগা ছিল না। সেই সময়কার কঠিণ প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল নেতৃত্ব পরিবর্তনের। তাই, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তার চেষ্টায় আওয়ামী রাজনীতিতে আসেন এড. আব্দুল হাকিম, এড. সোবহান, রেজাউল করিম হীরা, মতিয়র রহমান তালুকদারের বলিষ্ঠ নেত্রিবৃন্দ। আরও যুক্ত হন শেরপুরের আনিছ মিয়া, নিজাম, সামাদ। সরিষাবাড়ীর আঃ মালেক, মেলান্দহের আঃ হাই বাচ্চু মিয়া, দেওয়ানগঞ্জের সামাদ, মাদারগঞ্জের করিমুজ্জামান ও শ্রীবর্দি, নালিতাবাড়ী এবং নকলার নেতৃবৃন্দ।

ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও ক্ষমতার প্রতি নির্লোভ ছিলেন এই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক। তিনি সব সময় বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, আদর্শ ও নীতির চর্চা করেছেন। রাজনীতি করেছেন দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের। অর্থবিত্তের প্রতি তার কোনো আগ্রহ ছিল না। আমিত্ব অপছন্দ করতেন না তিনি। যার কারণে ওই সময়ে দুই একজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কর্মকান্ডের সমালোচক ছিলেন তিনি। সব সময় থেকেছেন প্রচার বিমুখ। পদ ও প্রচারের আড়ালে থেকেও নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মি হিসেবে কাজ করে গেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে প্রায় ৫০ বছরে তিনি দল ও দেশের জন্য কাজ করেছেন। সহ্য করেছেন জেল জুলুম নির্যাতন। বিনিময়ে দল বা দেশের কাছে কখনও কিছু চাননি।

সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার নীতিবিবর্জিত কর্মকান্ড বা সিদ্ধান্তের প্রতি অভিমান বুকে নিয়ে নব্বইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসে চলে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে শান্তিতে থাকতে পারেননি। নিজের হাতে গড়া দল ও দেশ তাকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে। ২০০০ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে তিনি স্বস্ত্রীক লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসেন। ইচ্ছা ছিল একুশ ফেব্রুয়ারী ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে আবার চলে যাবেন। কিন্তু বিধিবাম। স্বাধীনতা দিবস আসার আগেই ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রিয় দেশ প্রিয় দল ও আপনজনদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

মরহুম মোকাদ্দেছ আলী একজন রাজনীতিবিদ ছাড়াও ছিলেন, সমাজসেবি, ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের হয়ে তিনি বয়ে এনেছিলেন বিড়ল সম্মাননা।

মরহুমের জ্যোষ্ঠপুত্র এম.এ. কামাল শাহীন, মুজিববর্ষে পিতা ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রæশিক্ত হয়ে পড়েন। বলেন, আওমী লীগ থেকে আমার বাবা আজ বিস্মৃত। কেউ তাঁর কথা মনে রাখেননি। এড. আব্দুল হাকিমের নামে স্টেডিয়াম আছে, এড. সোবহানের নামে সড়ক। মতিয়র রহমানের নামে রেল স্টেশন রয়েছে, সৈয়দ আলী মন্ডলের নামে হয়েছে কমিউনিটি সেন্টার। আরও অনেক নেতার নামে অনেক কিছু। কিন্তু আমার বাবা নামে একটি তোড়ণও হয়নি। আমি সন্তান হিসেবে বহুবার চেষ্টা করেছি বাবার কর্মকে স্বীকৃতির মাঝে বাঁচিয়ে রাখার। কিন্তু পারেনি। যারা পারতেন বা পাড়বেন তারা এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেননি। মুজিববর্ষে এটা আমাদের আক্ষেপ।

দল দেশের প্রতি অসামান্য অবদানকারী, সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান, মোকাদ্দেছ আলীর মতো কীর্তিমানদের কৃতিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাদের কর্মের স্বীকৃতিদানে বঙ্গবন্ধুর কন্যা, প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা এগিয়ে আসবেন, এমন প্রত্যাশা জামালপুর বাসীর।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!