ঢাকা   রবিবার ০৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  জামালপুরে ৬শ অসহায় পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ (জামালপুরের খবর)        জামালপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই: আশরাফুল ইসলাম বুলবুল (জামালপুরের খবর)        করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের সমস্যা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন-মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)        গন্তব্যে পৌছবে কি ছানুর নৌকা (জামালপুরের খবর)        বেতন ও বোনাসের টাকায় ঈদ সামগ্রী নিয়ে দেড়শ মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কিরন আলী (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে তরুনদের সহায়তায় দুইশত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ (জামালপুরের খবর)        ময়মনসিংহে ৩শ দরিদ্র পরিবারের মাঝে সেনা প্রধানের ঈদ উপহার পৌঁছে দিলেন আর্টডক সদস্যরা (ময়মনসিংহ)        করোনা যোদ্ধা নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী দাস শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন (ময়মনসিংহ)        বিদ্যানদীর মত সকল সামাজিক সংগঠন যদি এই দুর্যোগের সময়ে এগিয়ে আসে তবে সরকারের উপর চাপ অনেকংশে কমে যাবে -মির্জা আজম এমপি (জামালপুরের খবর)      

করোনা পরিস্থিতিতে আরও বাড়তে পারে ছুটি

Logo Missing
প্রকাশিত: 11:41:28 am, 2020-03-31 |  দেখা হয়েছে: 9 বার।

আ.জা. ডেক্স:

করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরও বাড়ানো হতে পারে। এমনই চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে এখনও চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চলমান করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কয়েকটি ধাপে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াভয়তা বেড়ে যাচ্ছে। ঘরের বাইরে বের হওয়াটা আরও ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে তাদের নিরাপত্তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বর্তমান ছুটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী রমজান ও ঈদের ছুটি পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল সোমবার বলেন, সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সবার আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হতে পারে। সচিব বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে রাখতে বেশ কিছু বিকল্প পন্থা হাতে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে সংসদ টেলিভিশনে শ্রেণি পাঠ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভিন্ন আরও কিছু পন্থা আমরা চিন্তা-ভাবনা করেছি। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে সেসব বাস্তবায়ন করা হবে। এমনিতে বছরের অর্ধেক সময় বিভিন্ন কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে যাতে কোনো ব্যাঘাত না হয়, তাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে- যোগ করেন সচিব মাহবুব হোসেন।

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, সবার আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে আমরা ভাবছি। তবে এখনও বিষয়টি নিয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিকল্প পন্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হবে। চলতি সপ্তাহ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাস রেকর্ডি করে টেলিভিশনে তা সম্প্রচার শুরু করা হবে। বাসায় বসে শিক্ষার্থীরা সিলেবাস অনুযায়ী পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে সেরা শিক্ষকদের রেকর্ডিং করা ক্লাস গত রোববার থেকে সম্প্রচার শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

এদিকে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ছুটি শেষ না হতেই এই ছুটি আরো কয়েকদিন বাড়তে পারে বলে অফিসপাড়ায় লোকজনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই ছুটি আরো সপ্তাহ খানেক বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই। সরকারের মন্ত্রী এবং সচিবরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সেজন্য ২ বা ৩ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গত ২৩ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে জানান, ২৬ মার্চ থেকে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ছুটির মধ্যে জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি, এর সঙ্গে ২৭-২৮ তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। আর ২৯ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। ৩-৪ এপ্রিল আবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। তবে ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার সব খোলা থাকবে। ছুটি ঘোষণার দিন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে ৩৩ জনের সংক্রমণ ও তিনজনের মৃত্যুর মধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় হতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে, গতকাল সোমবার নতুন একজনসহ এ পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। তবে গত দু’দিন দেশে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে ৭২ ঘণ্টায় মাত্র একজন রোগী শনাক্ত হলেও সরকারের প্রস্তুতি থেমে নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সব রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। ছুটির বিষয়ে সরকারের আরেকজন মন্ত্রী এদিন বলেন, ১০ দিনের ছুটি দিয়ে সরকার যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে আর একটু বাড়ালে হয়তো বিপজ্জনক সময়টা কেটে যাবে বলে মনে করছে সরকার। তবে ছুটি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ছুটি বাড়িয়ে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনই স্পস্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। সরকারের একজন সিনিয়র সচিব বলেন, ছুটির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ছুটি বাড়ানো হলে আগামী ২ বা ৩ তারিখের দিকে সিদ্ধন্ত আসতে পারে। করোনা ভাইরাস হতে রক্ষায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর আগে ১৮ হতে ৩১ মার্চ এবং পরে তা বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে একেবারে রোজা ও ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ছুটির মধ্যে ২৬ মার্চ হতে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে সরকার। আর মার্কেটগুলো ২৫ হতে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছের মালিক সমিতির।

করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আহবানের মধ্যে বিভিন্ন দেশে লকডাউন বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছে সে দেশগুলোর সরকার। পার্শ্ববর্তী ভারতেও চলছে ২১ দিনের লকডাউন। বাংলাদেশেও করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ছুটি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তের দিকেই সরকার যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।