ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৭ জানুয়ারী ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  পরাজয়ের বেদনা ভুলতে ভোট নিয়ে প্রশ্ন: ওবায়দুল কাদের (রাজনীতি)        ফের বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা (বিবিধ)         প্রবাসীদের এনআইডি দিতে ইসির উদ্যোগ (প্রবাসীদের কথা)        শেখ হাসিনা, রেহানার নামের ফেসবুক পেজ ভুয়া: আ. লীগ (বাংলাদেশ)        কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করতে বললেন বদি (জেলার খবর)        এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না: জয় (রাজনীতি)        ওষুধের মান রক্ষায় সারাদেশে ৬টি নতুন মিনি ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ (বিবিধ)        দেশে আমদানি বাড়লেও বাড়ছে না শুল্ক আদায় (অর্থনীতি )        নির্বাচনী ইশতেহার পালন করাই চ্যালেঞ্জ, মন্ত্রীসভার শপথের পর কাদের (রাজনীতি)        যা পেয়েছি তাতেই শুকুর আলহামদুলিল্লাহ: তোফায়েল (রাজনীতি)      

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তুলনামূলক অচেনা মুখ তাজুল ইসলাম

Logo Missing
প্রকাশিত: 07:38:18 pm, 2019-01-07 |  দেখা হয়েছে: 2 বার।

আজ ডেক্সঃ বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকরাই বরাবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হয়ে এলেও এবার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন জাতীয় অঙ্গনে তুলনামূলক অচেনা মুখ তাজুল ইসলাম। গতকাল সোমবার শপথ নেওয়া শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা আওয়ামী লীগের নেতা তাজুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। গার্মেন্ট ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম কুমিল্লা-০৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসন থেকে চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজুল, এই কমিটিরই সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন। নব্বইয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রে ফেরার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী করা হয়েছিল বিএনপি মহাসচিব আবদুস সালাম তালকদুরকে। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হন তৎকালীন দলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া আবার সরকার গঠন করলে সারা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মসূচি বাস্তবায়নের এই মন্ত্রণালয় সামলান বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়া। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যে সরকার গঠন করেন সেখানেও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী করা হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে সেখানে ওই মন্ত্রণালয় পান সৈয়দ আশরাফ। তবে মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিতির জন্য সমালোচনার মুখে পড়া আশরাফকে ছয় মাসের মধ্যে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা। সে সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, এরপর থেকে ওই দায়িত্ব সামলে আসছিলেন তিনি।২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হলেও আগের মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সামলেছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভায়ও তাকে ওই দায়িত্বে রাখছেন শেখ হাসিনা। বিগত সরকারের প্রবীণ অনেক মন্ত্রীর সঙ্গে বাদ পড়েছেন শেখ হাসিনার বেয়াই খন্দকার মোশাররফ হোসেনও। তার জায়গায় তাজুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তাকে এই দায়িত্বে আনার কারণ খুঁজতে আওয়ামী লীগের কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় নেতাকে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রথম সাংসদ হন তাজুল ইসলাম, এরপর ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এরমধ্যে দুই দফায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবালয় মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে ছিলেন তিনি। তাই এ বিষয়ে জ্ঞান থাকায় প্রধানমন্ত্রী তার ওপরই ভরসা রাখছেন বলে মনে করছেন তারা। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউই নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। মন্ত্রী হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তাজুল ইসলাম বলেন, নেত্রী আমাকে যে দায়িত্ব প্রদান করবেন আমি তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করব। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিটি গ্রাম হবে শহর- এ লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক তা বাস্তবায়নে কাজ করব। কুমিল্লার লাকসামের ছেলে তাজুল স্কুল-কলেজের গ-ি পেরিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। তিনি বিয়েও করেন চট্টগ্রামে। ওই শহরেই গার্মেন্ট ব্যবসায় হাত দিয়ে সফলতার দেখা পান তাজুল। তার মালিকানাধীন ফেবিয়ান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অধীনে ২০টির মতো পোশাক কারখানা রয়েছে। বেসরকারি যমুনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আছেন তাজুল। এ ছাড়া ‘দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ’ নামে একটি পত্রিকার প্রকাশক তিনি। তাজুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন। মেয়েদের মধ্যে একজন ব্যারিস্টার, আর অন্যজন আমেরিকায় লেখাপড়া করছেন।