ঢাকা   মঙ্গলবার ২০ অগাস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া (বিবিধ)        খুলনা রেলওয়ে থানায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি (খুলনা)        গাজীপুরে মশার ২৫ টন ওষুধ আমদানি করা হয়েছে: মেয়র জাহাঙ্গীর (জেলার খবর)        ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে দুই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী (জাতীয়)        কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন (জেলার খবর)        ফের হাইকোর্ট ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন (আইন ও বিচার)        আগামী বছর থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী (কৃষি ও প্রকৃতি)        দেশের সব ক্ষেত্রে সমন্বিত উন্নয়ন হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী (জাতীয়)        দুর্নীতির মামলায় নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির গ্রেফতার (জেলার খবর)        খালেদার ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর (আইন ও বিচার)      

ওষুধের মান রক্ষায় সারাদেশে ৬টি নতুন মিনি ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

Logo Missing
প্রকাশিত: 05:25:11 pm, 2019-01-12 |  দেখা হয়েছে: 7 বার।

আজ ডেক্সঃ দেশজুড়ে নকল ও নি¤œমানের ওষুধে সয়লাব। অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীদের কারণে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য। এমন পরিস্থিতিতে নকল ও নিম্ন মানের ওষুধ ঠেকাতে দেশের ৬টি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের মিনি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর এ কাজের সার্বিক তত্ত্বাধান করবে গ্লোবাল প্রোগ্রাম টাইটেল প্রোমোটিং দ্য কোয়ালিটি অব মেডিসিন (পিকিউএম)। সেক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা এবং ওষুধের মান নিশ্চিতকরণে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেট ফার্মাকোপিয়া (ইউএসপি)। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বিগত ২০১৭-১৮ সালের তথ্যানুযায়ী সংস্থাটি ২২১টি অভিযোগের বিপরীতে এক কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং তার মধ্যে ৪২ লাখ ৬০ হাজার ১৭০ টাকার অবৈধ নকল ওষুধ জব্দ করা হয়। বর্তমানে ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাত্র দুটি ল্যাব রয়েছে। তার মধ্যে ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে (এনসিএল) ৮৫৪টি দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির ৪০ হাজার ২৮৫টি পণ্য তদারকি এবং মান পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি সেখানে আমদানিকৃত অসংখ্য ওষুধের মান পরীক্ষার কাজও করাতে হয়। বহু ধরনের ওষুধের মান মাত্র দুটি ল্যাবে পরীক্ষা করতে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আন্তর্জাতিক মানের মিনি ল্যাবগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র জানায়, ওষুধ মান নির্ণয়কারী ৬টি মিনি ল্যাব প্রতিষ্ঠা হলে ওষুধ পরীক্ষার কাজটি সহজ হয়ে যাবে। মিনি ল্যাবগুলোতে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ওষুধের মান পরীক্ষা করা সম্ভব। অথচ একই কাজ করতে এনসিএল ল্যাবে অপেক্ষা করতে হতো কয়েক সপ্তাহ। গত বছরের অক্টোবরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং রংপুরে মিনি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়। ল্যাব বসানোর জন্য জমির অনুসন্ধান চলছে। আর ওসব ল্যাব পরিচালনায় ইউএসএইড অর্থায়ন করবে ৫ বছর। তাছাড়া ওই ল্যাবগুলো পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ওষুধ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী এবং যেসব ওষুধ বাজারে বিক্রি হয় বেশি সেগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে মান পরীক্ষার জন্য মিনি ল্যাবগুলোতে নেয়া হবে। তাছাড়া নতুন এবং দামি ওষুধ, দুর্গম এবং রোগের প্রাদুর্ভাবপূর্ণ এলাকায় ব্যবহৃত হওয়া ওষুধেরও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। কারণ মানহীন এবং নকল ওষুধে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হয় না। বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সাধারণ রোগীদের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে মৃত্যুহার বাড়ার পাশাপাশি অধিক পরিমাণে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারেরও সম্ভাবনা থাকে। এদিকে এ প্রসঙ্গে পিকিউএম-বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম খান জানান, ওষুধ প্রশাসন মিনি ল্যাবগুলোর পরিচালনায় থাকবে। পিকিউএম কারিগরি সহায়তা দিয়ে ওষুধের মান ঠিক রাখা এবং স্থানীয় বাজারের নকল ওষুধ ছড়িয়ে পড়ছে কিনা তা মনিটিরিং করবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. রুহুল আমিন জানান, ওষুধের মান সুরক্ষার জন্য এটি অধিদফতরের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে বরিশাল ও রাজশাহীতে দুটি ল্যাব চালু করা হবে। সেজন্য অর্গানোগ্রাম করাও হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ জন করে লোক নিয়োগের ফাইলও অনুমোদন দিয়ে অর্থ ছাড় করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। যা বাজারে ওষুধের সঠিক মান মূল্যায়ন এবং নকল ওষুধের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার একটি পদক্ষেপ। মিনি ল্যাবটি বাংলাদেশের নতুন ধারণা। এটিই প্রথম মাঠ পর্যায়ের ওষুধের বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষাগার। মিনি ল্যাবগুলো ওষুধের বাজারে নজরদারিতে এক ধরনের নতুন গতিশীলতা সৃষ্টি করবে।