ঢাকা   সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Image Not Found!

সর্বশেষ সংবাদ

  ৭ দিনের রিমান্ডে কাউন্সিলর মিজান (আইন ও বিচার)        বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষ সিলগালা (রাজনীতি)        জামালপুরে সাড়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেফতার (জামালপুরের খবর)        জামালপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যাকসিন হিরো উপাধী পাওয়ায় অভিনন্দন বার্তা ও আনন্দ শোভাযাত্রা (জামালপুরের খবর)        দেওয়ানগঞ্জ শিক্ষক কর্তৃক ৬বছরের শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ ঘটনায় ধর্ষকের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ (জামালপুরের খবর)        ইসলামপুরে বিআরটিসি বাস উদ্বোধন (জামালপুরের খবর)        দেওয়ানগঞ্জ সদরে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় ঘর নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতি (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে অজ্ঞাতনামা যুবতীর লাশ উদ্ধার (জামালপুরের খবর)        সরিষাবাড়ীতে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থী নিখোঁজ (জামালপুরের খবর)        ঢাকাস্থ ইসলামপুর উপজেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ইসলামপুর ৪০টি ময়লা ফেলার ডাস্টবিন স্থাপন (জামালপুরের খবর)      

প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত সবজি ও ফলের এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হচ্ছে

Logo Missing
প্রকাশিত: 10:38:59 pm, 2019-02-11 |  দেখা হয়েছে: 1 বার।

আজ ডেক্সঃ দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সবজি ও ফলের উৎপাদন দ্রুত বাড়লেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে তার এক-তৃতীয়াংশই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদক থেকে শুরু করে মধ্যস্বত্বভোগী, সংগ্রহকারী, মজুদদার, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাতবদলের পর্যায়ে ওসব সবজি-ফল নষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্যানুযায়ী দেশে প্রতি বছর মোট উৎপাদিত ফল-সবজির ৩১ শতাংশ বা ৩১ লাখ টন নষ্ট হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সবজি ও ফলের উৎপাদন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জমি থেকে ফসল সংগ্রহের পর ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছতে বিপুল পরিমাণ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া সংগ্রহোত্তর অব্যবস্থাপনার কারণে ফল ও সবজি অনিরাপদও হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এসব ফল ও সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয় টমেটো। সংগ্রহোত্তর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদিত টমেটোর ৪২ শতাংশ নষ্ট হয়। একই কারণে বিপুল পরিমাণ আমও নষ্ট হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয় ক্ষীরশাপাতি আম, ৩৭ শতাংশ। তাছাড়া ফজলি আম নষ্ট হয় ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যান্য ফল ও সবজির মধ্যে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছতে কলা নষ্ট হয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ, কুমড়া ৭ দশমিক ৮, ফুলকপি ২২, শসা ২৪ দশমিক ৩, বাঁধাকপি ২৫ ও বিন ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। সূত্র জানায়, উৎপাদিত সবজি ও ফলের অপচয় রোধ করা গেলে দেশের মানুষের যে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো নিমিষেই মেটানো সম্ভব। ওই লক্ষ্যে ফসলোত্তর ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরো বাড়াতে হবে। একই সাথে জাত উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি না থাকা, প্রযুক্তিগুলো কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে না পৌঁছা এবং পর্যাপ্ত নীতিসহায়তার অভাবেই উৎপাদিত ফল ও সবজির অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি বিপণন ব্যবস্থার দুর্বলতা, সীমিত গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা, নাজুক পরিবহন ও দুর্বল প্যাকেজিংয়ের কারণেও সবজি ও ফল অপচয় হচ্ছে। তাতে দেশের অর্থ ও সম্পদের অপচয় বাড়ছে। তাছাড়া ফসলোত্তর অব্যবস্থাপনা কমিয়ে দিচ্ছে খাদ্যের মানও। ওই অব্যবস্থাপনা খাদ্যশস্য ও সবজিকে খাবারের অনুপযোগী করার পাশাপাশি পুষ্টিমান ও ক্যালোরিমূল্য কমিয়ে দিচ্ছে। কুল চেইন না মানা, শুকানোর পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং ভুল ধারণার কারণেও সবজি ও ফলের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, বিশেষজ্ঞরা উৎপাদিন সবজি ও ফলের অপচয় রোধ ও গুণগত মান ধরে রাখতে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। তার মধ্যেসার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও নীতিসহায়তায় একটি কমিটি গঠনের পাশাপাশি মানসম্মত শাকসবজি ও ফল উৎপাদনে উত্তম কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া ফসল সংগ্রহের সময় কীটনাশকের অপেক্ষমাণ সময় (পিএইচআই) কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। পরামর্শ দেয়া হয়েছে নিরাপদ শাকসবজি ও ফল উৎপাদনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন জোন তৈরিরও। সর্বোপরি এমআরএলসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিসংক্রান্ত রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পাদনের জন্য অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি স্থাপন করার সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, দেশে এখন প্রায় ২৫ লাখ খাদ্য ব্যবসায়ী রয়েছে। সেজন্য খাদ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় উৎকৃষ্ট পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগুলো সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও গবেষণার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে থাকা ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেউ ভুল করলে জেল-জরিমানা বা সাজা প্রদানই একমাত্র সমাধান নয়, তাদের পথ দেখাতে হবে। সরকার সে চেষ্টাই করছে। কারণ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে। সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সেজন্য খাদ্য পরীক্ষা, তদারকি এবং সনদ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার সুযোগ দেয়া হবে।